আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির প্রয়াণের পর ইরানের সর্বোচ্চ নেতৃত্ব নিয়ে যে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছিল, তা কাটাতে বড় ধরনের অগ্রগতির আভাস পাওয়া যাচ্ছে। দেশটির নতুন ‘সুপ্রিম লিডার’ নির্বাচনের দায়িত্বে থাকা প্রভাবশালী ধর্মীয় পরিষদ ‘অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্ট’ ইতিমধ্যেই একজন উত্তরসূরির বিষয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠ ঐকমত্যে পৌঁছেছে। রোববার (৮ মার্চ ২০২৬) পরিষদের অন্যতম সদস্য আয়াতুল্লাহ মোহাম্মদমেহেদী মিরবাকেরি জানিয়েছেন, সদস্যদের মধ্যে মোটামুটি একটি বড় অংশ একমত হলেও চূড়ান্ত ঘোষণার আগে এখনো কিছু প্রশাসনিক ও কৌশলগত ‘বাধা’ রয়ে গেছে। তবে এই জটিলতাগুলো দ্রুত কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হলে খুব শিগগিরই তেহরানের নতুন অভিভাবকের নাম বিশ্ববাসী জানতে পারবে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম মেহর নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মিরবাকেরি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, নির্বাচন প্রক্রিয়াটি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। সাধারণত এই ধরনের স্পর্শকাতর বৈঠকগুলো অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে সরাসরি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও বর্তমান অস্থির পরিস্থিতির কারণে ভিন্ন পন্থা অবলম্বনের কথা ভাবা হচ্ছে। পরিষদের আরেক জ্যেষ্ঠ সদস্য আয়াতুল্লাহ মহসিন হায়দারি আলে কাসির এক ভিডিও বার্তায় জানিয়েছেন, নিরাপত্তার স্বার্থে সরাসরি বৈঠকের পরিবর্তে বিকল্প উপায়ে চূড়ান্ত ভোট গ্রহণ করা হতে পারে। ইতিমধ্যে একজন শক্তিশালী প্রার্থীর নাম পরিষদের ভেতরে চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে তিনি আভাস দিয়েছেন।
নতুন নেতার যোগ্যতা নিয়ে খামেনির দেওয়া একটি পরামর্শ এখন পরিষদের মূল নির্দেশিকা হিসেবে কাজ করছে। হায়দারি আলে কাসিরের মতে, খামেনি চেয়েছিলেন এমন একজনকে স্থলাভিষিক্ত করতে যাকে ইরানের ‘শত্রুরা’ কখনোই পছন্দ করবে না বা প্রশংসা করবে না। অর্থাৎ নতুন নেতা হবেন এমন একজন, যিনি পশ্চিমা শক্তির কাছে আপসহীন হিসেবে পরিচিত। এই কঠোর মনোভাব মূলত ইরানের ইসলামি বিপ্লবের আদর্শিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখার একটি কৌশল। এই মানদণ্ড বজায় রেখে কাকে বেছে নেওয়া হয়েছে, তা নিয়ে পুরো বিশ্বে এখন টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে।
তবে ইরানের এই অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত প্রক্রিয়ায় বাইরের দেশগুলোর নাক গলানো পরিস্থিতির জটিলতা আরও বাড়িয়েছে। সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আলি খামেনির পুত্র মোজতবা খামেনিকে নেতা হিসেবে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে মন্তব্য করেছেন। ট্রাম্পের এই প্রকাশ্য হস্তক্ষেপকে তেহরান তাদের সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত হিসেবে দেখছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের বিরোধিতাই হয়তো মোজতবা বা সমমনা কোনো কট্টরপন্থীকে ক্ষমতায় বসানোর পথ আরও প্রশস্ত করে দিতে পারে। ইরানের নতুন নেতার ঘোষণাটি কেবল দেশটির ভবিষ্যৎ নয়, বরং গোটা মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক সমীকরণকে বদলে দিতে পারে।



