পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে নাড়ির টানে ঢাকা ছাড়বেন প্রায় এক কোটিরও বেশি মানুষ। এই বিশাল জনগোষ্ঠীর ঈদযাত্রা নিরাপদ করতে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিশেষ সচেতনতামূলক প্রচারণার জোর দাবি জানিয়েছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন। সোমবার (৯ মার্চ ২০২৬) সংস্থাটির পক্ষ থেকে দেওয়া এক যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, আমাদের দেশে এত বিপুল সংখ্যক মানুষকে অল্প সময়ে পরিবহন করার মতো মানসম্মত যানবাহনের সংকট রয়েছে। ফলে প্রতি বছরই মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অনিরাপদ যানবাহনে গন্তব্যে রওনা হন, যা বড় ধরনের দুর্ঘটনার পথ প্রশস্ত করে। এই সংকট মোকাবিলায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নজরদারির পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধি এখন সময়ের দাবি।
রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এ আই মাহবুব উদ্দিন আহমেদসহ শীর্ষ নেতৃবৃন্দ ঈদযাত্রায় শৃঙ্খলার স্বার্থে ছাত্র ও যুব সমাজকে সম্পৃক্ত করার প্রস্তাব দিয়েছেন। তারা মনে করেন, কেবল সরকারি বাহিনীর ওপর নির্ভর না করে তরুণদের স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে যুক্ত করলে সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখা সহজ হবে। এছাড়া বিটিআরসির মাধ্যমে ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে সচেতনতামূলক কনটেন্ট প্রচার করলে সাধারণ যাত্রীদের মধ্যে সাবধানতা বাড়বে। বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, সড়ক পরিবহনের এই চরম ঘাটতি পূরণে সেনাবাহিনী, পুলিশ ও বিজিবির মতো সরকারি সংস্থাগুলোর যানবাহন বিশেষ ব্যবস্থাপনায় ব্যবহার করা যেতে পারে, যা যাত্রীদের দুর্ভোগ ও ঝুঁকি অনেকাংশে কমিয়ে আনবে।
সংস্থাটি ঈদযাত্রায় অতিরিক্ত ভাড়া আদায় এবং সড়কে চাঁদাবাজি বন্ধে কঠোর প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে। প্রায়ই দেখা যায়, অসাধু চক্র এই সুযোগে যাত্রীদের পকেট কাটতে সক্রিয় হয়ে ওঠে। এছাড়া মহাসড়কে সিটি সার্ভিসের বাস চলাচল এবং ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন নিয়ন্ত্রণ না করলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব নয়। বিশেষ করে রাতের বেলা দূরপাল্লার বাসে ডাকাতি প্রতিরোধে হাইওয়ে পুলিশের টহল জোরদার করার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। যাত্রীদের জন্য সড়কে পর্যাপ্ত আলো ও নির্দেশক চিহ্ন নিশ্চিত করার পাশাপাশি জরুরি স্বাস্থ্যসেবা এবং মোবাইল টয়লেটের মতো মানবিক সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির দাবিও জানানো হয়েছে এই বিবৃতিতে।
পরিশেষে, রোড সেফটি ফাউন্ডেশন মনে করে যে কেবল ঢাকা ত্যাগ নয়, বরং ঈদের ফিরতি যাত্রাতেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে। দুর্ঘটনার হার কমাতে ত্রুটিপূর্ণ সড়ক মেরামত ও স্পিড ব্রেকারগুলোর সঠিক মার্কিং করা জরুরি। সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান স্বাক্ষরিত এই বিবৃতিতে সরকারি ও বেসরকারি সকল পক্ষকে সমন্বিতভাবে কাজ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। ঈদ যেন বিষাদে পরিণত না হয়, সেজন্য এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সরকারের জন্য অপরিহার্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।



