হাদি
তদন্তে জানা গেছে, গত ১২ ডিসেম্বর দুপুরে রাজধানীর পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট এলাকায় একটি ব্যাটারিচালিত রিকশায় থাকা অবস্থায় হাদিকে লক্ষ্য করে চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে গুলি ছোড়া হয়। মোটরসাইকেলের পেছনে বসে সরাসরি হাদিকে গুলি করেছিলেন সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ফয়সাল করিম। গুরুতর আহত অবস্থায় হাদিকে প্রথমে ঢাকা ও পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলেও ১৮ ডিসেম্বর সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়। রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও ‘নতুন ধারার রাজনীতি’ শুরু করার কারণেই হাদিকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয় বলে গোয়েন্দা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের এসটিএফ জানিয়েছে, ফয়সাল ও আলমগীর অবৈধভাবে মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশ করেন। এরপর ভারতের বিভিন্ন স্থানে পরিচয় গোপন করে ঘোরাফেরা করার পর তাঁরা পশ্চিমবঙ্গের বনগাঁ এলাকায় আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করছিলেন। তাঁদের উদ্দেশ্য ছিল সুযোগ বুঝে আবার বাংলাদেশে ফিরে আসা এবং সম্ভবত পুনরায় কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হওয়া। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে চালানো এই অভিযানটি দুই দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা ও অপরাধী বিনিময় চুক্তির প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
বাংলাদেশের পুলিশ কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী (বাপ্পী)। তাঁর নির্দেশেই ভাড়াটে খুনি হিসেবে ফয়সাল ও আলমগীর এই মিশন সফল করেন। বাপ্পীও বর্তমানে ভারতে পলাতক রয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এখন এই দুই আসামিকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করা এবং মূল হোতা বাপ্পীকে খুঁজে বের করাই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরবর্তী বড় চ্যালেঞ্জ।



