― Advertisement ―

ভারতের সঙ্গে চুক্তির প্রতিবাদে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সামনে ছাত্র জোটের বিক্ষোভ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরে রেল কানেকটিভিটি বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা চুক্তির প্রতিবাদে পুলিশের বাধা অতিক্রম করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে...

তেলের বাজারে কারসাজি রুখতে কঠোর সরকার: মাঠে নামছে মোবাইল কোর্ট

মধ্যপ্রাচ্যের বারুদঠাসা পরিস্থিতির নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে দেশের জ্বালানি বাজারে। যুদ্ধের অজুহাতে এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে পকেট ভারী করার যে চেষ্টা চালাচ্ছেন, তা রুখতে এবার সরাসরি মাঠে নামছে সরকার। অবৈধ মজুতদারি, নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি রাখা এবং তেল পাচার ঠেকাতে দেশজুড়ে মোবাইল কোর্ট বা ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রোববার (০৮ মার্চ ২০২৬) জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ থেকে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো এক চিঠিতে জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়।

সরকারের এই পদক্ষেপ কেবল কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ নেই; রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে ইতিমধ্যে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে অভিযান শুরু হয়েছে। তেজগাঁও এবং মহাখালীর মতো ব্যস্ত এলাকার ফিলিং স্টেশনগুলোতে ঝটিকা সফর করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। অভিযানে দেখা গেছে, কোনো কোনো পাম্পে নিয়ম মেনে তেল বিক্রি হলেও বেশ কিছু স্টেশনে ‘তেল শেষ’ বা ‘ড্রাই’ অবস্থার দোহাই দিয়ে সাময়িকভাবে সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে। এই পরিস্থিতি সাধারণ মানুষের মনে আতঙ্ক তৈরি করছে, যার সুফল ভোগ করছে মজুতদার চক্র।

মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বাজারে জ্বালানি তেলের নিশ্চিত ও নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ বজায় রাখাই এখন তাদের প্রধান চ্যালেঞ্জ। পাম্পগুলোতে তেলের মজুত পরীক্ষা করার পাশাপাশি সরকারি নির্দেশনাসমূহ দৃশ্যমান স্থানে টানানো হয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মহাখালীর একটি পাম্পে পর্যাপ্ত অকটেন মজুত থাকলেও তা বিক্রি না করার বিষয়টি ধরা পড়লে কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপে পুনরায় সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়। এটি প্রমাণ করে যে, অনেক ক্ষেত্রে তেলের সংকট নয় বরং সঠিক তদারকির অভাবই সাধারণ মানুষকে ভোগান্তিতে ফেলছে।

যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সরবরাহ ব্যবস্থা কিছুটা নাজুক হলেও সরকার বারবার আশ্বস্ত করছে যে, মজুত পর্যাপ্ত রয়েছে। অতিরিক্ত মুনাফার আশায় যারা তেল সরিয়ে রাখছেন বা সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়াচ্ছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের এই তৎপরতা কেবল রাজধানী নয়, বরং সারা দেশের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ছড়িয়ে দেওয়া হলে ঝালকাঠির মতো প্রান্তিক জনপদগুলোতেও কৃত্রিম সংকট দ্রুত কেটে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।