ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার আঁচ এবার এসে লেগেছে ঝালকাঠির জ্বালানি বাজারে। যুদ্ধের অজুহাতে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়তে পারে—এমন জল্পনাকে পুঁজি করে এক শ্রেণির অসাধু ডিলার শুরু করেছেন ডিজেল ও পেট্রোলের ‘মজুদদারি’ খেলা। ফলে রোববার সকাল থেকেই ঝালকাঠির পেট্রোল পাম্পগুলোতে তৈরি হয়েছে তীব্র কৃত্রিম সংকট। পাম্প মালিকরা তেলের সরবরাহ সীমিত করে দেওয়ায় বিপাকে পড়েছেন সাধারণ যানবাহন চালক ও কৃষি কাজে সেচ পাম্প ব্যবহারকারী কৃষকরা।
শহরের বিভিন্ন পাম্প ও খুচরা দোকান ঘুরে দেখা গেছে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়। চাহিদা অনুযায়ী তেল না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন অনেক ক্রেতা। যদিও খুচরা ব্যবসায়ীদের দাবি, তেলের ডিপো থেকে প্রতিদিনের স্বাভাবিক সরবরাহ বজায় থাকলেও সাধারণ ক্রেতারা ভবিষ্যতে সংকটের আশঙ্কায় অতিরিক্ত তেল কেনার চেষ্টা করছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ডিপো কর্তৃপক্ষ নিয়মিত চাহিদার বাইরে বাড়তি তেল বিক্রি সাময়িকভাবে বন্ধ রেখেছে। তবে বাস্তবতা হলো, সাধারণ ক্রেতারা পাম্পে এসে প্রয়োজনীয় লিটার তেলটুকুও পাচ্ছেন না।
এদিকে ঝালকাঠি পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতির নেতারা অভিযোগের আঙুল তুলেছেন এক শ্রেণির অসাধু ডিলারদের দিকে। তাঁদের দাবি, ডিপোতে পর্যাপ্ত তেল থাকলেও ডিলাররা বাড়তি লাভের আশায় তেল সরিয়ে ফেলছেন বা মজুত করছেন। পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা—এই তিন প্রধান তেল ডিপো থেকে প্রতিদিন দক্ষিণাঞ্চলের ৮টি জেলায় বিশাল পরিমাণ জ্বালানি সরবরাহ করা হয়। কর্তৃপক্ষের দাবি অনুযায়ী যদি সরবরাহ স্বাভাবিক থাকে, তবে পাম্পগুলোতে তেলের হাহাকার থাকার কোনো যৌক্তিক কারণ নেই।
বর্তমান পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষ আশঙ্কা করছেন, এই কৃত্রিম সংকট দীর্ঘায়িত হলে পণ্য পরিবহনের খরচ বেড়ে যাবে এবং এর প্রভাব পড়বে নিত্যপণ্যের বাজারে। ঝালকাঠির স্থানীয় প্রশাসন যদি দ্রুত এই মজুদদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেয়, তবে ইরান যুদ্ধের দোহাই দিয়ে পকেট ভারী হবে কেবল গুটি কয়েক অসাধু ব্যবসায়ীর, আর চরম মূল্য দিতে হবে সাধারণ জনগণকে। কৃত্রিম সংকট মোকাবিলায় নিয়মিত মনিটরিং এবং ডিলারদের গুদামে তল্লাশি চালানো এখন সময়ের দাবি।



