― Advertisement ―

বাংলাদেশে বিনিয়োগের এখনই সময়: চীনা ব্যবসায়ীদের প্রধানমন্ত্রী

পারস্পরিক স্বার্থে ‘বিশ্বের সবচেয়ে উদার’ বিনিয়োগ ব্যবস্থার সুবিধা নিয়ে চীনা ব্যবসায়ী সম্প্রদায়কে বাংলাদেশের প্রধান খাতগুলোয় বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।মঙ্গলবার বেইজিংয়ের সাংগ্রি-লা সার্কেলে...

চারকোলেই ফিরবে পাটের সোনালি গৌরব: BCCMEA সভাপতি আতিকুর রহমান

বাংলাদেশের পাট শিল্পের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনতে এক নীরব বিপ্লব ঘটিয়ে চলেছে ‘পাটকাঠি থেকে উৎপাদিত চারকোল’। ২০১২ সালে অনানুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করলেও বর্তমানে এটি দেশের অন্যতম উদীয়মান রপ্তানি খাত হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। বাংলাদেশ চারকোল ম্যানুফ্যাকচারার্স এন্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (BCCMEA) এই খাতের প্রসারে ও নতুন আন্তর্জাতিক বাজার সন্ধানে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। বর্তমানে জাপান, ব্রাজিল, যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়াসহ বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় দেশগুলোতে বাংলাদেশের চারকোল রপ্তানি হচ্ছে, যা জাতীয় অর্থনীতিতে যোগ করছে নতুন মাত্রা।

সংগঠনের সভাপতি আতিকুর রহমান এই খাতের ভবিষ্যৎ নিয়ে অত্যন্ত আশাবাদী। তিনি বলেন, “চারকোল উৎপাদন ও রপ্তানি নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার যেভাবে অভিভাবকের ভূমিকা পালন করছে, তা আমাদের সকলকে আপ্লুত করে। বিগত বছরগুলোতে যেসব উদ্যোক্তা তৈরি হয়েছেন, তাঁরা যদি গুণগত মান বজায় রেখে স্থিতিশীল উৎপাদন ও রপ্তানি অব্যাহত রাখেন, তবে পাটের হারানো সোনালি গৌরব ফিরিয়ে আনতে চারকোলই হবে প্রধান চাবিকাঠি।” তাঁর মতে, সঠিক তদারকি ও উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে বাংলাদেশ বিশ্বজুড়ে চারকোল উৎপাদনের প্রধান কেন্দ্রে পরিণত হবে।

এক সময় পাটকাঠি কেবল রান্নার জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হলেও এখন তা মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের হাতিয়ার। দেশে প্রতি বছর প্রায় ৩০ লাখ টন পাটকাঠি উৎপাদিত হয়, যার মাত্র অর্ধেক ব্যবহার করেও বছরে প্রায় ৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকা আয় করা সম্ভব। বর্তমানে এই খাতে প্রায় ১০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে এবং গত অর্থবছরে প্রায় ২৫০ কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হয়েছে। BCCMEA-এর প্রচেষ্টায় এবং সরকারের ‘চারকোল নীতিমালা ২০২২’ বাস্তবায়নের মাধ্যমে আগামী ৫ বছরে রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা ১০০ মিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

বিশ্বব্যাপী পরিবেশ সুরক্ষায় চারকোলের বহুমুখী ব্যবহার বাড়ছে। বিশেষ করে পানি শোধন, টায়ার ইন্ডাস্ট্রি এবং প্রসাধন সামগ্রীর কাঁচামাল হিসেবে চারকোলের চাহিদা আকাশচুম্বী। বন উজাড় করে কাঠ থেকে চারকোল তৈরির পরিবর্তে পরিবেশবান্ধব পাটকাঠি ব্যবহার করায় আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান এখন অনেক সুসংহত। সভাপতি আতিকুর রহমানের নেতৃত্বে BCCMEA বিশ্বাস করে, বনাঞ্চল রক্ষা করে পাটকাঠিকেই যদি চারকোল উৎপাদনের প্রধান কাঁচামাল হিসেবে বিশ্বদরবারে প্রতিষ্ঠিত করা যায়, তবেই পাটের প্রকৃত সোনালি দিন ফিরে আসবে।