― Advertisement ―

ভারতের সঙ্গে চুক্তির প্রতিবাদে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সামনে ছাত্র জোটের বিক্ষোভ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরে রেল কানেকটিভিটি বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা চুক্তির প্রতিবাদে পুলিশের বাধা অতিক্রম করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে...

দীর্ঘ ছুটির আমেজ: ১৮ মার্চও ছুটি ঘোষণা, ঈদে টানা ৭ দিন পাচ্ছেন সরকারি চাকুরেরা

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নির্বিঘ্ন এবং আনন্দময় করতে এক অভূতপূর্ব সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ ২০২৬) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভা বৈঠকে আগামী ১৮ মার্চ (বুধবার) নির্বাহী আদেশে ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এর ফলে পূর্বনির্ধারিত ছুটির সাথে নতুন এই দিনটি যুক্ত হয়ে এবার সরকারি চাকুরেরা টানা ৭ দিনের দীর্ঘ এক অবকাশ যাপনের সুযোগ পাচ্ছেন। সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকের পর প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ সাংবাদিকদের এই খুশির খবর নিশ্চিত করেন।

চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২০ বা ২১ মার্চ দেশে মুসলিম উম্মাহর সবচাইতে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে। ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, ২১ মার্চ ঈদের দিন সাধারণ ছুটি এবং এর আগে-পরে দুই দিন করে মোট চার দিন নির্বাহী আদেশে ছুটি আগে থেকেই নির্ধারিত ছিল। তবে মাঝখানে ১৮ মার্চ (বুধবার) অফিস খোলা থাকায় দীর্ঘ ছুটির পথে একটি ছোট বাধা রয়ে গিয়েছিল। মন্ত্রিসভার আজকের এই সিদ্ধান্তে সেই বাধাও দূর হলো। এখন ১৭ মার্চ শবে কদরের ছুটি থেকে শুরু করে ২৩ মার্চ পর্যন্ত টানা সাত দিন দেশজুড়ে ঈদের আমেজ বিরাজ করবে।

যাত্রী কল্যাণ সমিতিসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন গত কয়েকদিন ধরেই ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক করতে ছুটির বিন্যাস বা বাড়ানোর দাবি জানিয়ে আসছিল। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী শেখ রবিউল আলমও এই বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছিলেন। সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে মূলত ধাপে ধাপে বাড়ি যাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে, যা ঢাকা ছাড়ার পথে অসহনীয় যানজট এবং গণপরিবহন সংকট কমাতে সহায়ক হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। গত বছরের দীর্ঘ ছুটির ইতিবাচক অভিজ্ঞতাই সরকারকে এবারও এমন জনবান্ধব সিদ্ধান্ত নিতে উৎসাহিত করেছে।

সচিবালয় সূত্র জানিয়েছে, সরকারি অফিসগুলোর পাশাপাশি স্বায়ত্তশাসিত ও আধা-স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলোও এই ছুটির আওতায় থাকবে। তবে জরুরি সেবা যেমন হাসপাতাল, ফায়ার সার্ভিস ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা এই সাধারণ ছুটির আওতামুক্ত থেকে দেশসেবায় নিয়োজিত থাকবেন। দীর্ঘ এই ছুটির ঘোষণা আসার পরপরই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে আনন্দের জোয়ার বইছে। অনেকেই ইতোমধ্যেই নাড়ির টানে বাড়ি ফেরার প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছেন। এবারের ঈদযাত্রা যেন কেবল ভ্রমণের ধকল না হয়ে পরিবারের সাথে কাটানো শ্রেষ্ঠ সময় হয়—সরকারের এই উদ্যোগের লক্ষ্য মূলত সেটাই।