ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে নাড়ির টানে বাড়ি ফেরা মানুষের জন্য এবার এক স্বস্তিদায়ক ভ্রমণের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে সরকার। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ ২০২৬) বিকেলে সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এক গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতি সভা শেষে সরকারের তিন মন্ত্রণালয়ের (সড়ক, রেল ও নৌ) দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, ঈদযাত্রায় চাঁদাবাজি করার কোনো সুযোগ নেই। তিনি বলেন, “সড়কে কোনো অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করা হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী থেকে শুরু করে পরিবহন শ্রমিক নেতা—সবাই এ বিষয়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।”
মন্ত্রী এবারের ঈদযাত্রাকে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে অভিহিত করেছেন। কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, মাত্র দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে ঢাকা ছাড়বেন প্রায় দেড় কোটি মানুষ। বিশ্বের আর কোনো শহরে এত অল্প সময়ে এত বিশাল সংখ্যক মানুষের প্রস্থান ঘটে কি না তা তাঁর জানা নেই। তবে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকার পূর্ণ প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। মন্ত্রীর মতে, গতবারের সফল অভিজ্ঞতাই এবার আরও নিখুঁতভাবে ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে সাহস দিচ্ছে।
যাত্রীদের বড় অভিযোগের জায়গা ‘বাড়তি ভাড়া’ প্রসঙ্গে মন্ত্রী কড়া বার্তা দিয়েছেন। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে এক টাকাও বেশি নেওয়ার সুযোগ নেই। যদি কোনো বাস মালিক বা শ্রমিক বাড়তি ভাড়া আদায় করেন, তবে তাৎক্ষণিকভাবে তাঁদের ‘রুট পারমিট’ বাতিল করা হবে এবং প্রয়োজনে ফৌজদারি আইনে শাস্তি দেওয়া হবে। তিনি সাধারণ যাত্রীদের প্রতি আহ্বান জানান, কোথাও এমন অন্যায় ঘটলে যেন তৎক্ষণাৎ কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়।
ঈদের আগে যানজট নিরসনের অন্যতম কৌশল হিসেবে পোশাক কারখানাগুলো ১৬ মার্চ থেকে ধাপে ধাপে ছুটি দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। মন্ত্রী বলেন, “গার্মেন্টস মালিকরা আমাদের অঙ্গীকার করেছেন যে তাঁরা পর্যায়ক্রমে ছুটি দেবেন। এতে সড়কে একসাথে কয়েক লাখ মানুষের চাপ পড়বে না।” এছাড়া মহাসড়কের শৃঙ্খলা ফেরাতে ২৮টি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। হাইওয়ের ওপর কোনো অস্থায়ী দোকানপাট বা অবৈধ পার্কিং বরদাশত করা হবে না। ফিটনেসবিহীন গাড়ি বা তাড়াহুড়ো করে মেরামত করা লক্কড়-ঝক্কড় গাড়ি যাতে রাস্তায় নামতে না পারে, সে জন্য প্রতিটি ওয়ার্কশপে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
সদরঘাটের ওপর চাপ কমাতে এবার বসিলার ঘাট এবং কাঞ্চনঘাটও চালু করা হয়েছে বলে মন্ত্রী জানান। এছাড়া ঈদের দুই দিন আগে ও পরে পচনশীল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ছাড়া সব ধরনের ভারী ট্রাক-লরি চলাচল বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রীর এই সুনির্দিষ্ট ও বহুমুখী পরিকল্পনা মূলত একটি নিরাপদ, নির্বিঘ্ন এবং হয়রানিমুক্ত ঈদ উপহার দেওয়ার প্রয়াস।



