― Advertisement ―

পারভীন হত্যা: খুনি রসু খাঁর মৃত্যুদণ্ড বহাল হাই কোর্টে

চাঁদপুরের পারভীন হত্যা মামলায় আলোচিত খুনি রসু খাঁর মৃতুদণ্ড বহাল রেখেছে হাই কোর্ট।মঙ্গলবার বিচারপতি সৈয়দ মো. জিয়াউল করিম ও বিচারপতি কে এম ইমরুল কায়েশের...

সহপাঠীকে ছুরিকাঘাত ও হত্যাচেষ্টা: দুই দিনের রিমান্ডে সাবেক সমন্বয়ক রিয়াদ

রাজধানীর গুলশানে প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটির এক শিক্ষার্থীকে নৃশংসভাবে মারধর ও সুইচ গিয়ার চাকু দিয়ে আঘাতের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক আব্দুর রাজ্জাক বিন সোলাইমান রিয়াদকে দুই দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহ এই আদেশ প্রদান করেন। গত ২৬ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরেই এক শিক্ষার্থীকে পরিকল্পিতভাবে হামলার অভিযোগে রিয়াদসহ আরও তিনজনকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪১২ নম্বর কক্ষে সমাবর্তন সংক্রান্ত আলোচনার একপর্যায়ে পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, রিয়াদের সরাসরি নির্দেশে অন্য আসামিরা ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী নির্জন সরদার বাঁধনের ওপর চেয়ার দিয়ে হামলা চালান। একপর্যায়ে রিয়াদ নিজে একটি সুইচ গিয়ার চাকু দিয়ে নির্জনের মুখমণ্ডলে আঘাত করেন, যাতে তার নাক গুরুতর জখম হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের উপস্থিতিতেই এই হামলার ঘটনা ঘটে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। খবর পেয়ে গুলশান থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আসামিদের আটক করে।

তদন্তকারী কর্মকর্তা আদালতে জানান, এই হামলার পেছনে কোনো সুসংগঠিত চক্র বা গভীর কোনো রহস্য রয়েছে কিনা তা উদঘাটনে আসামিদের নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন। যদিও রিয়াদের পক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিল ও জামিনের আবেদন করেছিলেন, তবে আদালত অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনা করে রিয়াদের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। মামলার অন্য তিন আসামি—রিয়াদুল হাওলাদার, আলিফ আহম্মেদ আশিক এবং সায়েম শিকদারকে রিমান্ড না দিয়ে সরাসরি কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য যে, এটি রিয়াদের বিরুদ্ধে প্রথম কোনো আইনি জটিলতা নয়। এর আগে গত বছরের জুলাই মাসে সাবেক এক সংসদ সদস্যের বাসভবনে চাঁদা দাবির অভিযোগে তিনি গ্রেফতার হয়েছিলেন। জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর এবার নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের সহপাঠীকে হত্যাচেষ্টার মতো গুরুতর অভিযোগে তিনি আবারও আইনি কাঠগড়ায়। সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে এই ঘটনাটি চরম নিরাপত্তাহীনতা ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণে যেখানে শিক্ষা ও সম্প্রীতির পরিবেশ থাকার কথা, সেখানে সাবেক সমন্বয়কের এমন সহিংস আচরণ সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের হতবাক করে দিয়েছে।