বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা এবং সরবরাহ সংকটের মুখে দেশবাসীকে সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। বুধবার বিকেলে সচিবালয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি সাফ জানিয়ে দেন, জ্বালানি সংকটের কারণে বর্তমানে বিদ্যুৎ উৎপাদন এক কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। তবে জনগণের ভোগান্তি কমাতে ইফতার, তারাবিহ এবং সেহরির সময় লোডশেডিং না করার বিশেষ নিশ্চয়তা দিয়েছেন তিনি। মন্ত্রীর মতে, বর্তমান পরিস্থিতি রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সময়ের চেয়েও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।
মন্ত্রী বলেন, “জ্বালানি না থাকলে বিদ্যুৎ আসবে কোথা থেকে? আমাদের সরবরাহ ব্যবস্থা ধীর হয়ে গেছে। তবে আমরা যদি সবাই মিলে সাশ্রয়ী হই, তবে মার্চ পর্যন্ত বর্তমান মজুদ দিয়ে চালিয়ে নেওয়া সম্ভব।” তিনি আরও যোগ করেন যে, লোডশেডিং হলেও তা যাতে ‘অসহনীয়’ না হয়, সেদিকে সরকার নজর রাখছে। তবে গ্যাসের ক্ষেত্রে কিছুটা সংকটের আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ইতিমধ্যে বিভিন্ন খাতে গ্যাস সরবরাহ রেশনিং করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানি সংগ্রহের তীব্র প্রতিযোগিতার কারণে খোলা বাজার (Spot Market) থেকে বাড়তি জ্বালানি কেনার চেষ্টায় কাঙ্ক্ষিত সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে সংকটের সঠিক ব্যবস্থাপনাই এখন সরকারের প্রধান কৌশল। আসন্ন ঈদের ছুটিতে শিল্পকারখানা বন্ধ থাকলে বিদ্যুতের চাহিদা কমবে, যা সংকট সামাল দিতে কিছুটা সহায়ক হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। পাশাপাশি শপিংমলে অপ্রয়োজনীয় আলোকসজ্জা বন্ধের ব্যাপারেও তিনি কঠোর নির্দেশনা দেন।
বিদ্যুৎমন্ত্রী দেশের সীমান্ত এলাকাগুলোতে ডিজেল পাচারের আশঙ্কায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, প্রতিবেশী দেশে তেলের দাম বেশি থাকায় অবৈধ পথে ডিজেল পাচার হওয়ার প্রমাণ মিলছে। এ বিষয়ে সীমান্তবর্তী জেলাগুলোর জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। প্রয়োজনে ওইসব এলাকায় ডিজেল বিক্রিতে রেশনিং ব্যবস্থা চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জ্বালানি সাশ্রয়ে দেশজুড়ে প্রচারণা শুরুর পাশাপাশি শিগগিরই মন্ত্রণালয় থেকে বিস্তারিত নির্দেশনা জারি করা হবে বলে জানান তিনি।



