― Advertisement ―

ভারতের সঙ্গে চুক্তির প্রতিবাদে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সামনে ছাত্র জোটের বিক্ষোভ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরে রেল কানেকটিভিটি বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা চুক্তির প্রতিবাদে পুলিশের বাধা অতিক্রম করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে...

ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবায় নতুন দিগন্ত: ই-হেলথ কার্ড চালুর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

দেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে ‘ই-হেলথ’ কার্ড প্রবর্তনের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার দুপুরে সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে এই কার্যক্রম দ্রুত শুরু করার তাগিদ দেন। এই উদ্যোগের ফলে দেশের স্বাস্থ্য খাতে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে বলে আশা করা হচ্ছে, যেখানে একজন রোগীর সমস্ত চিকিৎসা ইতিহাস একটি ডিজিটাল কার্ডের মাধ্যমেই সংরক্ষিত থাকবে। প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন বৈঠকের পর সাংবাদিকদের এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

বৈঠকে কেবল প্রযুক্তিগত উন্নয়নই নয়, বরং অবকাঠামোগত প্রসারের দিকেও বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন যে, সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার অধীনে থাকা পরিত্যক্ত ভবনগুলো চিহ্নিত করে সেগুলোকে দ্রুত স্বাস্থ্যকেন্দ্রে রূপান্তর করতে হবে। উদাহরণস্বরূপ, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রায় ১৭০টি পরিত্যক্ত ভবন রয়েছে, যেগুলোকে ক্লিনিক হিসেবে ব্যবহার করে প্রান্তিক পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা বিস্তৃত করা সম্ভব। প্রধানমন্ত্রীর এই ‘আউট অব দ্য বক্স’ চিন্তা মূলত সরকারি সম্পদের সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে জনগণের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার একটি প্রয়াস।

দেশের ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা নিয়েও বৈঠকে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রতি বছর বাংলাদেশে প্রায় ৩৪ লাখ নবজাতক জন্ম নেয়। এই বিশাল সংখ্যার বিপরীতে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা এবং জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে মন্ত্রণালয়কে আরও তৎপর হওয়ার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া বিএনপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এক লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের বিষয়টিও আলোচনায় গুরুত্ব পায়। যেখানে ৮০ শতাংশ নারী ও ২০ শতাংশ পুরুষ নিয়োগের মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায়ে সেবার মান বাড়ানো হবে। চিকিৎসকদের শূন্যপদ পূরণ এবং দুর্গম এলাকায় তাঁদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতেও কড়া বার্তা দিয়েছেন সরকারপ্রধান।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন ও প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিতসহ শীর্ষ কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে এই বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, চিকিৎসাসেবা পাওয়া জনগণের অধিকার, দয়া নয়। বিশেষ করে চরাঞ্চল বা দুর্গম পাহাড়ি এলাকার মানুষ যাতে উন্নত চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত না হয়, সেজন্য প্রযুক্তির ব্যবহারের পাশাপাশি জনবল বৃদ্ধি ও অবকাঠামোগত উন্নয়নকে সমান্তরালভাবে এগিয়ে নেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। ‘ই-হেলথ’ কার্ড হবে সেই আধুনিক বাংলাদেশের প্রতীক, যেখানে স্বাস্থ্যসেবা হবে সহজলভ্য ও হয়রানিমুক্ত।