আফ্রিকার খনিজ সমৃদ্ধ দেশ কঙ্গোর পূর্বাঞ্চলে অস্থিরতা উসকে দেওয়ার অভিযোগে রুয়ান্ডার প্রতিরক্ষা বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের ওপর খড়্গহস্ত হয়েছে ওয়াশিংটন। যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, বিদ্রোহী গোষ্ঠী M23-এর সামরিক সাফল্য রুয়ান্ডার প্রত্যক্ষ সমর্থন ছাড়া সম্ভব ছিল না। সোমবার (২ মার্চ ২০২৬) ঘোষিত এই নিষেধাজ্ঞায় রুয়ান্ডার সেনাপ্রধান ভিনসেন্ট নিয়াকারুন্দি এবং চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ মুবারক মুগাঙ্গাসহ চার শীর্ষ জেনারেলের নাম রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, এই কর্মকর্তারা কঙ্গোর সার্বভৌম ভূখণ্ড দখলে বিদ্রোহীদের সরাসরি অপারেশনাল সহায়তা দিয়েছেন।
গত বছরের শেষে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় রুয়ান্ডা ও কঙ্গোর মধ্যে একটি শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। ট্রাম্প একে একটি ‘বিরাট অলৌকিক ঘটনা’ হিসেবে অভিহিত করলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন ঘটেনি। চুক্তির মাত্র কয়েক দিন পরেই M23 বিদ্রোহীরা কঙ্গোর গুরুত্বপূর্ণ শহর উভিরা দখল করে নেয়। স্টেট ডিপার্টমেন্টের মতে, রুয়ান্ডার এই মদত শান্তি চুক্তির ‘স্পষ্ট লঙ্ঘন’। কঙ্গোর উত্তর ও দক্ষিণ কিভু প্রদেশের বড় অংশ এখন বিদ্রোহীদের কবলে, যার পেছনে রুয়ান্ডার আধুনিক অস্ত্রশস্ত্র ও সুশৃঙ্খল বাহিনীর অবদান রয়েছে বলে মনে করে পশ্চিমারা।
এই নিষেধাজ্ঞাকে স্বাগত জানিয়েছে কঙ্গো সরকার। কঙ্গোর পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয় একে তাদের আঞ্চলিক অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতি মার্কিন সমর্থনের ‘জোরালো সংকেত’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। তবে রুয়ান্ডা সরকার এই অভিযোগকে বরাবরের মতোই প্রত্যাখ্যান করেছে। দেশটির মুখপাত্র ইয়োলান্ডে মাকোলো দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র বাস্তবতাকে বিকৃত করে একতরফাভাবে রুয়ান্ডাকে লক্ষ্যবস্তু করছে। রুয়ান্ডার পাল্টা অভিযোগ, কঙ্গো সরকারই শান্তি চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করে ড্রোন হামলা চালাচ্ছে।
কঙ্গোর পূর্বাঞ্চলে চলমান এই সংঘাত বিশ্বের অন্যতম ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় তৈরি করেছে। জাতিসংঘের তথ্যমতে, প্রায় ৭০ লাখ মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়েছেন। M23 বিদ্রোহী গোষ্ঠী নির্বিচারে হত্যা ও নারী-শিশুদের ওপর সহিংসতার জন্য কুখ্যাত। যুক্তরাষ্ট্র এখন আল্টিমেটাম দিয়েছে যে, রুয়ান্ডাকে অবিলম্বে কঙ্গোর মাটি থেকে তাদের সেনা ও অস্ত্র সরিয়ে নিতে হবে। অন্যথায় এই সংঘাত একটি বড় ধরনের আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সামরিক বিশ্লেষকরা।



