পাকিস্তানের করাচিতে অবস্থিত মার্কিন কনসুলেটে হামলা চেষ্টার সময় বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে মার্কিন মেরিন সেনারা সরাসরি গুলিবর্ষণ করেছে। সোমবার (২ মার্চ ২০২৬) ওয়াশিংটনের দুজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা রয়টার্সের কাছে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর খবরে উত্তাল হয়ে ওঠা করাচিতে গত রবিবারের ওই ঘটনায় অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছেন। কোনো কূটনৈতিক মিশনে মার্কিন মেরিন সেনাদের এমন সরাসরি বলপ্রয়োগের ঘটনা অত্যন্ত বিরল, যা পাকিস্তানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক সম্পর্কে চরম উত্তেজনা তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিক্ষোভকারীরা যখন কনসুলেটের বহিঃদেয়াল ভেঙে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করছিল, তখনই ভেতর থেকে গুলি চালানো হয়। কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, মেরিন সেনারা ঠিক কত রাউন্ড গুলি চালিয়েছে বা তাদের গুলিতেই প্রাণহানি হয়েছে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। কারণ সেখানে স্থানীয় পুলিশ এবং বেসরকারি নিরাপত্তা কর্মীরাও পাহারায় ছিল। তবে রয়টার্সের কাছে মার্কিন কর্মকর্তাদের এই স্বীকারোক্তি পরিস্থিতিকে এক নতুন মোড় দিয়েছে। করাচি পুলিশের এক কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন যে, গুলি কনসুলেটের ভেতর থেকেই চালানো হয়েছিল।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, বিক্ষোভকারীরা কনসুলেটের দিকে লক্ষ্য করে গুলি ছুঁড়ছে এবং গুলির শব্দ শুনে রক্তাক্ত অবস্থায় বহু মানুষকে পালিয়ে যেতে দেখা যাচ্ছে। ইরানের পর পাকিস্তানই বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম শিয়া জনবহুল দেশ হওয়ার কারণে খামেনির মৃত্যুর প্রভাব সেখানে অত্যন্ত ব্যাপক। সোমবার দেশজুড়ে সব ধরনের জনসমাগম নিষিদ্ধ করেছে পাকিস্তান সরকার। সারাদেশে বিক্ষোভে এ পর্যন্ত অন্তত ২৬ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। করাচি ও লাহোরের রাস্তাগুলোতে এখন পুলিশ ও আধা-সামরিক বাহিনীর সাঁজোয়া যানের টহল দৃশ্যমান।
এই পরিস্থিতির ভয়াবহতা আঁচ করে পেন্টাগন ও মার্কিন মেরিন কর্তৃপক্ষ পুরো বিষয়টি এখন স্টেট ডিপার্টমেন্টের ওপর ছেড়ে দিয়েছে। তবে স্টেট ডিপার্টমেন্ট এখনো এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। পাকিস্তানের শিয়া নেতারা সরকারের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করেই নতুন করে প্রতিবাদের ডাক দিয়েছেন। করাচি, লাহোর ও ইসলামাবাদে মার্কিন মিশনগুলোর চারপাশের রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের এই আঁচ এখন দক্ষিণ এশিয়ায় এক ভয়াবহ অস্থিতিশীলতার জন্ম দিচ্ছে, যার কেন্দ্রে রয়েছে করাচির এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ।



