― Advertisement ―

অচলাবস্থার মুখে কূটনীতি: কুয়েতে মার্কিন দূতাবাস অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ

মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ যখন বারুদ আর ক্ষেপণাস্ত্রের ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন, তখন এর আঁচ লাগল কূটনৈতিক সম্পর্কেও। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের মধ্যকার সংঘাতের পরিধি বিপজ্জনকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস তাদের সকল কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত ঘোষণা করেছে। মঙ্গলবার (৩ মার্চ ২০২৬) এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে দূতাবাস জানায়, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিয়মিত এবং জরুরি—সব ধরনের কনস্যুলার সেবা বন্ধ থাকবে। মূলত নিরাপত্তার চরম ঝুঁকি এবং যুদ্ধের ভয়াবহতা বিবেচনায় নিয়েই ওয়াশিংটন এই কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

সংকট দানা বাঁধতে শুরু করে গত সপ্তাহান্ত থেকে, যখন ইরানের হামলায় অন্তত চারজন মার্কিন সৈন্যের প্রাণহানি ঘটে। এরপর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে সোমবার, যখন কুয়েতের আকাশসীমায় যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়। পেন্টাগন এই ঘটনাকে ‘ফ্রেন্ডলি ফায়ার’ বা নিজেদের ভুলবশত চালানো আক্রমণ হিসেবে বর্ণনা করেছে। নিজ দেশের বাহিনীর হাতেই নিজেদের বিমান ভূপাতিত হওয়ার এই ঘটনা সামরিক সমন্বয়ে বড় ধরনের ত্রুটি এবং পরিস্থিতির ভয়াবহতাকেই নির্দেশ করে। এই ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা কূটনৈতিক মিশনের কর্মকর্তাদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করেছে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বর্তমান উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দূতাবাস কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সাধারণ নাগরিকদের ঝুঁকি এড়ানোই এখন মূল লক্ষ্য। বাতিল করা হয়েছে পূর্বনির্ধারিত সকল অ্যাপয়েন্টমেন্ট। এর আগে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগান সতর্ক করেছিলেন যে, ইরান-মার্কিন সংঘাত অব্যাহত থাকলে তা পুরো অঞ্চলের জন্য ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনবে। কুয়েতে মার্কিন দূতাবাসের এই তালাবদ্ধ পরিস্থিতি সেই অশনি সংকেতেরই বাস্তব রূপ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত অবস্থানে থাকা কুয়েত দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্রের একটি নির্ভরযোগ্য সামরিক ও কূটনৈতিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। সেখান থেকে কার্যক্রম গুটিয়ে নেওয়া ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, এই অঞ্চলে সংঘাতের মাত্রা হয়তো আরও দীর্ঘস্থায়ী ও বিধ্বংসী হতে যাচ্ছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার কোনো সুনির্দিষ্ট সময়সীমা জানায়নি দূতাবাস কর্তৃপক্ষ। ফলে হাজার হাজার ভিসা প্রার্থী এবং ওই অঞ্চলে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকরা এখন গভীর অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন।