ক্রিকেট মাঠে যখন বাবর-শাহিন বনাম মিরাজ-মুস্তাফিজদের লড়াই দেখার অপেক্ষায় ভক্তরা, ঠিক তখনই ভূ-রাজনীতির মারপ্যাঁচে থমকে যেতে বসেছে বহুল প্রতীক্ষিত বাংলাদেশ-পাকিস্তান ওয়ানডে সিরিজ। মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমায় চলমান অস্থিরতা ও যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আগামী ১১ মার্চ থেকে শুরু হতে যাওয়া এই সিরিজটি এখন গভীর অনিশ্চয়তার মুখে। পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ‘জিও সুপার’-এর বরাত দিয়ে জানা গেছে, নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং ভ্রমণসংক্রান্ত জটিলতা কাটিয়ে না ওঠা পর্যন্ত পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) সবুজ সংকেত দিচ্ছে না। ফলে সিরিজের দল ঘোষণাতেও দেখা দিয়েছে নজিরবিহীন বিলম্ব।
সূচি অনুযায়ী, মিরপুরের শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে ১১, ১৩ এবং ১৫ মার্চ তিনটি ওয়ানডে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। তবে পাকিস্তানের জন্য এই সফরটি কেবল একটি দ্বিপাক্ষিক সিরিজ নয়, বরং ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে সরাসরি জায়গা করে নেওয়ার এক অগ্নিপরীক্ষা। বর্তমান আইসিসি র্যাঙ্কিংয়ের মারপ্যাঁচে আগামী বছরের ৩১ মার্চের মধ্যে সেরা আটে থাকতে না পারলে বড় ধরনের বিপর্যয়ে পড়বে সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। শাহিন শাহ আফ্রিদির নেতৃত্বে দলটি যখন পুনর্গঠনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তখন এই সফরের প্রতিটি ম্যাচই তাদের জন্য মহামূল্যবান।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ব্যর্থতার গ্লানি নিয়ে পাকিস্তান ক্রিকেটে এখন চলছে বড় ধরনের রদবদল। বাবর আজম বা মোহাম্মদ নওয়াজদের মতো তারকাদের জায়গা পাওয়া নিয়ে যখন জোর আলোচনা চলছে, তখন মাঠের বাইরের এই যুদ্ধাবস্থা পিসিবি-কে নতুন করে ভাবিয়ে তুলেছে। অন্যদিকে, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) পরিস্থিতির ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখছে। দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে ও নামিবিয়ার মাটিতে হতে যাওয়া ১৪ দলের আগামী বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করতে হলে এই সিরিজের পয়েন্ট টেবিল উভয় দলের জন্যই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখন দেখার বিষয়, কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা আলোচনার টেবিলে জয়ী হয়ে ক্রিকেট শেষ পর্যন্ত মাঠে গড়ায় কি না।



