― Advertisement ―

তেহরানে চীনা নাগরিক নিহত; যুদ্ধবিরতি ও নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠক চায় চীন

পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সংঘাতের তৃতীয় দিনে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। তেহরানে মার্কিন ও ইসরায়েলি যৌথ হামলায় এক চীনা নাগরিক নিহতের খবর নিশ্চিত করেছে বেইজিং। সোমবার (২ মার্চ ২০২৬) চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানান। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, “বর্তমানে সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার হওয়া উচিত সামরিক অভিযান বন্ধ করা এবং সংঘাত যাতে পুরো অঞ্চলে ছড়িয়ে না পড়ে, তা নিশ্চিত করা।”

তেহরানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যে অভিযানে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নিহত হয়েছেন, সেই একই অভিযানে চীনা নাগরিকের প্রাণহানি বেইজিংকে ক্ষুব্ধ করেছে। মাও নিং অভিযোগ করেছেন যে, এই সামরিক অভিযানের বিষয়ে ওয়াশিংটন বেইজিংকে আগে থেকে কোনো তথ্য দেয়নি। এই অপ্রত্যাশিত ঘটনায় চীন ও রাশিয়া যৌথভাবে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠক ডাকার দাবি জানিয়েছে। বেইজিং মনে করে, কূটনৈতিক সংলাপের মাধ্যমেই কেবল এই সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব।

নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে গত সপ্তাহেই চীন তার নাগরিকদের ইরান ভ্রমণের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল। সোমবার পর্যন্ত অন্তত তিন হাজার চীনা নাগরিক ইরান ত্যাগ করেছেন। তবে যারা এখনো সেখানে অবস্থান করছেন, তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দূতাবাসকে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস যখন ইসরায়েল ও মার্কিন ঘাঁটিতে ‘ইতিহাসের ভয়াবহতম’ হামলার হুমকি দিচ্ছে, তখন এই উত্তেজনার রেশ সরাসরি গিয়ে পড়ছে বেইজিং-ওয়াশিংটন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ওপর।

আগামী ৩১ মার্চ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম চীন সফর নির্ধারিত রয়েছে। এই সফরের আগে তেহরানে এই রক্তক্ষয়ী সংঘাত দুই পরাশক্তির আলোচনার টেবিলে ছায়া ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মাও নিং জানিয়েছেন, সম্ভাব্য শীর্ষ বৈঠক নিয়ে দুই দেশ যোগাযোগ রক্ষা করছে, তবে বর্তমান পরিস্থিতির প্রভাব সেখানে কতটা পড়বে তা নিয়ে বেইজিং এখনই কোনো মন্তব্য করেনি। সংঘাত বন্ধে চীনের এই জোরালো অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের কূটনীতিতে বেইজিংয়ের ক্রমবর্ধমান ভূমিকারই বহিঃপ্রকাশ।