উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরানের টানা তৃতীয় দিনের সামরিক অভিযানের মধ্যে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এল। সোমবার (২ মার্চ ২০২৬) সকালে কুয়েতের আকাশসীমায় একাধিক মার্কিন যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। কুয়েতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এই খবরের সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছে, দুর্ঘটনায় আক্রান্ত সব ক্রু সদস্যই প্রাণে বেঁচে গেছেন। যদিও মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে এখন যুদ্ধের বারুদ, তবুও এই বিধ্বস্তের ঘটনাটি কারিগরি ত্রুটি নাকি শত্রুদেশের কোনো গুপ্ত হামলা, তা নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন জল্পনা।
কুয়েতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানান, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই তারা দ্রুত অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। তিনি বলেন, “সফল উদ্ধার অভিযানের মাধ্যমে সব ক্রু সদস্যকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। বর্তমানে তাদের স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে এবং প্রত্যেকের অবস্থা এখন স্থিতিশীল।” তবে ঠিক কতটি বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে বা বিমানগুলো কী ধরনের মডেলের ছিল, সে বিষয়ে কৌশলগত কারণে মুখ খোলেনি কুয়েত সরকার। পুরো এলাকাটি এখন কড়া নিরাপত্তা বলয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে এবং তদন্তের কাজ পুরোদমে চলছে।
এই ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটল যখন ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সম্পর্ক ইতিহাসের সবথেকে ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছেছে। ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস যখন উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে ‘ভয়াবহতম’ হামলার হুমকি দিয়ে আসছে, তখন এই যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনাটি মার্কিন সামরিক কৌশলে বড় ধরনের ধাক্কা হতে পারে। পেন্টাগন এখনো এই বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য না করলেও, কুয়েতের মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইরানের টানা তিন দিনের অব্যাহত হামলার ফলে ওই অঞ্চলের জ্যামিং ও রাডার ব্যবস্থার ওপর যে প্রভাব পড়েছে, তা বিমানগুলোর নেভিগেশনে সমস্যা তৈরি করে থাকতে পারে। আবার এটি ‘সাইবার অ্যাটাক’-এর ফল হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। কারণ যাই হোক না কেন, ক্রু সদস্যদের জীবিত ফিরে পাওয়াকে এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে একটি বড় স্বস্তি হিসেবে দেখছে মার্কিন প্রশাসন। মধ্যপ্রাচ্যের আকাশপথে এই দুর্ঘটনা বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্যে নতুন কোনো মোড় নিয়ে আসে কি না, তা-ই এখন দেখার বিষয়।



