মধ্যপ্রাচ্যের বারুদঠাসা পরিস্থিতিতে যখন কূটনৈতিক সমাধানের পথ খুঁজছে বিশ্ব, ঠিক তখনই যুক্তরাষ্ট্রকে সাফ ‘না’ বলে দিল ইরান। দেশটির সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের প্রধান আলী লারিজানি সোমবার (২ মার্চ ২০২৬) অত্যন্ত কঠোর ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, ওয়াশিংটনের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনায় বসার প্রশ্নই ওঠে না। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘এক্স’-এ দেওয়া এক বার্তায় তিনি ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে ইরানের আলোচনার গুঞ্জনকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে উড়িয়ে দেন। লারিজানির এই ঘোষণা তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার ফাটলকে আরও প্রশস্ত করল।
সাম্প্রতিক মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ হামলার পর আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে খবর রটেছিল যে, ইরান পরিস্থিতির অবনতি ঠেকাতে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে গোপনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করছে। কিন্তু লারিজানি সেই সম্ভাবনাকে নাকচ করে দিয়ে সরাসরি আক্রমণ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। তিনি বলেন, “ট্রাম্পের ভ্রান্ত কল্পনা পুরো অঞ্চলকে একটি অনিশ্চিত বিশৃঙ্খলার দিকে ঠেলে দিয়েছে।” লারিজানির মতে, মার্কিন প্রশাসন এখন তাদের সেনাদের সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে আতঙ্কিত বলেই এমন অপপ্রচার চালাচ্ছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানের এই অনড় অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিকে এক চরম অনিশ্চয়তার দিকে নিয়ে যাচ্ছে। এর আগে পারমাণবিক ইস্যুতে দুই দেশের মধ্যে পর্দার আড়ালে আলোচনার কথা শোনা গেলেও, সাম্প্রতিক সামরিক সংঘাত সেই সব প্রচেষ্টাকে ধুলিসাৎ করে দিয়েছে। ওয়াশিংটনের ‘ম্যাক্সিমাম প্রেশার’ বা সর্বোচ্চ চাপের বিপরীতে তেহরান এখন ‘সর্বোচ্চ প্রতিরোধ’ নীতি গ্রহণ করেছে। এই অনমনীয়তা কেবল পারমাণবিক আলোচনা নয়, বরং লোহিত সাগর ও উপসাগরীয় অঞ্চলের বাণিজ্যিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতাকেও নতুন করে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে যুদ্ধের দামামা আরও দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা করছেন সমর বিশেষজ্ঞরা।



