― Advertisement ―

জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে মধ্যপ্রাচ্য সংকট নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের তীব্র বাকযুদ্ধ

মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ যখন ক্ষেপণাস্ত্র আর বারুদের গন্ধে ভারী, ঠিক তখন নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দফতরে শুরু হয়েছে এক অন্যরকম যুদ্ধ—শব্দের যুদ্ধ। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে সামরিক হামলার পর উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে জরুরি বৈঠকে বসেছে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ। দীর্ঘস্থায়ী শত্রুতার জেরে ১৫ সদস্যের এই পরিষদ এখন আক্ষরিক অর্থেই দুই ভাগে বিভক্ত। একদিকে ওয়াশিংটন ও তেল আবিব তাদের হামলাকে ‘অস্তিত্ব রক্ষার প্রয়োজনে’ দেওয়া জবাব হিসেবে দেখছে, অন্যদিকে তেহরান একে বর্ণনা করছে ‘পূর্বপরিকল্পিত আগ্রাসন’ হিসেবে।

জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এই বৈঠকে অত্যন্ত সতর্ক ও উদ্বেগপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, এই সামরিক পদক্ষেপগুলো বিশ্বের সবথেকে অস্থিতিশীল অঞ্চলে এমন এক ‘নিয়ন্ত্রণহীন ঘটনাপ্রবাহ’ তৈরি করতে পারে, যার লাগাম টেনে ধরা কারো পক্ষেই সম্ভব হবে না। গুতেরেস যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বৃহৎ আকারের হামলার নিন্দা জানানোর পাশাপাশি ইরানের বিরুদ্ধে প্রতিবেশী দেশগুলোর সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের অভিযোগেরও সমালোচনা করেন। বিশেষ করে তেহরানের প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ ও সর্বোচ্চ নেতার কম্পাউন্ডে বিস্ফোরণের খবর পরিস্থিতিকে আরও ঘোলাটে করে তুলেছে।

বৈঠক চলাকালেই নতুন উত্তাপ ছড়ান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনির মৃত্যুর দাবি করে একে ‘বিশ্বের জন্য ন্যায়বিচার’ হিসেবে অভিহিত করেন। ট্রাম্পের এই ঘোষণার রেশ কাটতে না কাটতেই জাতিসংঘে মার্কিন প্রতিনিধি মাইক ওয়াল্টজ হুশিয়ারি দেন যে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য এক গুরুতর হুমকি এবং নিষ্ক্রিয় থাকার সুযোগ আর নেই। পাল্টা জবাবে ইরানের রাষ্ট্রদূত আমির সাইদ ইরাভানি দক্ষিণ ইরানের একটি স্কুলে হামলার কথা উল্লেখ করে একে ‘যুদ্ধাপরাধ’ হিসেবে আখ্যা দেন এবং দাবি করেন যে সেখানে বহু শিশু প্রাণ হারিয়েছে।

পুরো বৈঠকে মহাসচিবের কণ্ঠে বারবার ফিরে এসেছে শান্তির আকুতি। তিনি সাফ জানিয়েছেন, এখনই যদি উত্তেজনা প্রশমন ও যুদ্ধবিরতি কার্যকর না হয়, তবে এর চরম মূল্য দিতে হবে সাধারণ বেসামরিক জনগণকে। আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং একটি বৃহত্তর বিশ্বযুদ্ধ এড়াতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে দ্রুত ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। শব্দের এই লড়াই শেষ পর্যন্ত মাঠের যুদ্ধ থামাতে পারবে কি না, তা নিয়ে এখন বিশ্বজুড়ে চলছে গভীর উদ্বেগ।