একবিংশ শতাব্দীর ভূ-রাজনীতিতে এক প্রলয়ঙ্কারী অধ্যায়ের সূচনা হলো। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি তেহরানে নিজ কার্যালয়ে মার্কিন ও ইসরায়েলি যৌথ হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন। রোববার (১ মার্চ ২০২৬) সকালে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম আইআরআইবি অত্যন্ত ভারাক্রান্ত হৃদয়ে এই সংবাদটি নিশ্চিত করে জানায়, ‘সর্বোচ্চ নেতা শাহাদাত বরণ করেছেন’। দীর্ঘ সময় ধরে ইরানের দণ্ডমুণ্ডের কর্তা থাকা এই নেতার প্রয়াণে দেশটিতে ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে।
হামলার তীব্রতা এতটাই ভয়াবহ ছিল যে, খামেনির পাশাপাশি ইরানের সামরিক শক্তির মেরুদণ্ডও ভেঙে পড়েছে। দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান আব্দুল রহিম মুসাভি এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী আজিজ নাসিরজাদেহও একই অভিযানে নিহত হয়েছেন বলে রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা নিশ্চিত করেছে। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ খামেনির মৃত্যুর খবর জানিয়ে এক বিতর্কিত পোস্ট দেন। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শনিবার সকালেই তেহরানের কেন্দ্রস্থলে এই হামলা চালানো হয়, যেখানে আইআরজিসি প্রধান মোহাম্মদ পাকপুরসহ আরও বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কমান্ডার প্রাণ হারিয়েছেন।
এই হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথে মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। পাকিস্তানের করাচিতে মার্কিন কনস্যুলেটের সামনে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে অন্তত ৯ জন নিহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেখানে ব্যাপক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। অন্যদিকে, প্রতিবেশী দেশ ইরাক এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে। ইরাকি সরকারের পক্ষ থেকে এই হামলাকে ‘আন্তর্জাতিক বিধির স্পষ্ট লঙ্ঘন’ এবং ‘প্রকাশ্য আগ্রাসন’ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে।
ইরানের বর্তমান পরিস্থিতি এখন অত্যন্ত থমথমে। সর্বোচ্চ নেতার উত্তরসূরি নির্বাচন এবং এই বিশাল সামরিক শূন্যতা পূরণে ইরান কী পদক্ষেপ নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে আছে বিশ্ব। পেন্টাগন ও ইসরায়েলি বাহিনী এই অভিযানকে একটি সফল কৌশল হিসেবে দেখলেও, মধ্যপ্রাচ্য বিশেষজ্ঞারা আশঙ্কা করছেন—এই ঘটনা অঞ্চলটিকে একটি দীর্ঘস্থায়ী ও অনিয়ন্ত্রিত যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে পারে।



