― Advertisement ―

প্রতিশোধের আগুনে জ্বলছে ইরান: উপসাগরে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার হুঁশিয়ারি

আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি হত্যাকাণ্ডের পর মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্র এক ভয়াবহ রক্তক্ষয়ী সংঘাতের মুখে দাঁড়িয়ে। রোববার (১ মার্চ ২০২৬) তেহরান আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে যে, তাদের সর্বোচ্চ নেতার রক্ত বৃথা যেতে দেওয়া হবে না। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এই হত্যাকাণ্ডকে ‘সমগ্র মুসলিম উম্মাহর বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা’ হিসেবে অভিহিত করে বলেছেন, এই ঐতিহাসিক অপরাধের বদলা নেওয়া এখন ইরানের বৈধ অধিকার ও পবিত্র দায়িত্ব। তেহরানের এই কঠোর বার্তার পরপরই উপসাগরীয় অঞ্চলে মোতায়েন করা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে নতুন করে হামলার আশঙ্কা তীব্র হয়েছে।

এদিকে যুদ্ধের দামামা শুধু তেহরানেই সীমাবদ্ধ নেই। রাজধানী তেহরানে যখন হাজার হাজার মানুষ শোকাতুর হৃদয়ে জড়ো হচ্ছিলেন, ঠিক তখনই শহরটিতে আবারও বড় ধরনের বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) নিশ্চিত করেছে যে, তারা তেহরানের গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুগুলোতে দ্বিতীয় দফায় হামলা চালাচ্ছে। পাল্টা জবাবে ইরানও ইসরায়েল ও আমেরিকার ওপর ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। ইরানের নিরাপত্তা কাউন্সিলের প্রধান আলী লারিজানি হুশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, “আজ আমরা এমন শক্তি প্রদর্শন করব যা বিশ্ব আগে কখনো দেখেনি।” এই পাল্টাপাল্টি হামলায় মধ্যপ্রাচ্যের প্রধান শহরগুলো—জেরুজালেম থেকে রিয়াদ, দুবাই থেকে দোহা—সবই এখন আতঙ্কে থরথর করে কাঁপছে।

হামলার ক্ষয়ক্ষতির চিত্র অত্যন্ত মর্মান্তিক। ইরানের রেড ক্রিসেন্ট জানিয়েছে, সর্বশেষ অভিযানে অন্তত ২০১ জন নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে খামেনির উপদেষ্টা আলী শামখানি এবং রেভল্যুশনারি গার্ডের প্রধান জেনারেল মোহাম্মদ পাকপুরের মতো শীর্ষ ব্যক্তিরা রয়েছেন। অন্যদিকে, ওমানের দুকম বন্দরে ড্রোন হামলায় বিদেশি কর্মী আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সুযোগে নির্বাসিত শাহজাদা রেজা পাহলভি বর্তমান শাসনব্যবস্থার পতনের ভবিষ্যদ্বাণী করলেও, বিশ্লেষকরা মনে করছেন—এই শূন্যতা পূরণে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) প্রভাব ও ক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের নেতৃত্বে একটি অন্তর্বর্তীকালীন কাউন্সিল এখন ইরান পরিচালনার দায়িত্ব নিয়েছে, যাদের প্রথম কাজই হলো আমেরিকার নজিরবিহীন হুমকির মুখে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা।