ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এবং শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে রাজধানী ঢাকা। রোববার (১ মার্চ ২০২৬) বিকেলে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের উত্তর গেটে এক বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিলের আয়োজন করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ শাখার যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই সমাবেশে কয়েক হাজার নেতাকর্মী অংশ নেন। সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে দলটির নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম এমপি এই হত্যাকাণ্ডকে ‘গণতন্ত্র ও মানবতার ওপর চরম আঘাত’ হিসেবে অভিহিত করেন।
এটিএম আজহারুল ইসলাম তাঁর বক্তব্যে দাবি করেন, ইরানের ক্রমবর্ধমান অগ্রগতি রুখে দিতেই দীর্ঘদিনের ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে এই হামলা চালানো হয়েছে। তিনি বলেন, “এই হামলা কেবল ইরানের ওপর নয়, বরং গোটা মুসলিম উম্মাহর ওপর করা হয়েছে।” তিনি অবিলম্বে জাতিসংঘ ও ওআইসি-র (OIC) নিষ্ক্রিয়তার সমালোচনা করে বলেন, বিশ্ব সংস্থাগুলো তাদের যথাযথ ভূমিকা পালনে ব্যর্থ হলে সাধারণ মানুষ তাদের প্রত্যাখ্যান করবে। একই সঙ্গে তিনি মুসলিম বিশ্বকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ইসরায়েলি পণ্য বর্জন এবং দেশটির বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।
সমাবেশে অভ্যন্তরীণ রাজনীতির উত্তাপও পরিলক্ষিত হয়। চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে বিএনপির হামলায় জামায়াত কর্মী হাফিজুর রহমানের নিহতের ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে নায়েবে আমির সরকারকে সতর্ক করে বলেন, “রাজপথে নামতে আমাদের বাধ্য করবেন না। হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেফতার করুন, অন্যথায় রাজপথের আন্দোলন থেকে আপনারা নিস্তার পাবেন না।” এই হুঁশিয়ারি রাজধানীসহ দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপির সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন দলের কেন্দ্রীয় নেতারা। সমাবেশ শেষে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বায়তুল মোকাররম থেকে শুরু হয়ে পল্টন ও কাকরাইল মোড় প্রদক্ষিণ করে। মিছিলের সময় আশপাশের এলাকায় ব্যাপক পুলিশ মোতায়েন করা হয় এবং যান চলাচল সাময়িকভাবে বিঘ্নিত হয়। জামায়াতের এই কর্মসূচি মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার রেশ যে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও প্রভাব ফেলছে, তার এক বলিষ্ঠ প্রমাণ।



