― Advertisement ―

খামেনি হত্যাকাণ্ড আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন: কড়া প্রতিবাদ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের

ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুতে বিশ্বজুড়ে যে প্রতিক্রিয়ার ঢেউ উঠেছে, তাতে অত্যন্ত কঠোর ও সংবেদনশীল অবস্থান নিয়েছে প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তান। রোববার (১ মার্চ ২০২৬) পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই হত্যাকাণ্ডকে ‘আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক শোকবার্তায় তিনি ইরানের এই গভীর শোকের মুহূর্তে পাকিস্তানের জনগণ ও সরকারের পক্ষ থেকে আন্তরিক সমবেদনা জ্ঞাপন করেন। খামেনির মৃত্যুকে তিনি ‘শাহাদাত’ হিসেবে উল্লেখ করে ইরানি জনগণের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছেন।

প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ তাঁর বিবৃতিতে আন্তর্জাতিক রীতিনীতির ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, কোনো রাষ্ট্রের প্রধান বা সরকারপ্রধানকে লক্ষ্যবস্তু করা একটি প্রাচীন ও সর্বজনস্বীকৃত আন্তর্জাতিক কনভেনশনের পরিপন্থী। তিনি স্পষ্ট করে জানান, এই ধরনের হামলা কেবল একটি দেশের সার্বভৌমত্বকে আঘাত করে না, বরং বৈশ্বিক কূটনৈতিক স্থিতিশীলতাকেও হুমকির মুখে ফেলে দেয়। পাকিস্তান এই ধরনের বর্বরোচিত পদক্ষেপের বিরুদ্ধে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে এবং একে বিশ্ব রাজনীতির এক কালো অধ্যায় হিসেবে দেখছে।

বিবৃতির শেষাংশে শাহবাজ শরিফ মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। তিনি প্রার্থনা করেন যেন মহান আল্লাহ এই অপূরণীয় ক্ষতি সইবার জন্য ইরানের জনগণকে ধৈর্য ও শক্তি দান করেন। পাকিস্তানের এই অবস্থান কেবল প্রতিবেশী সুলভ সহমর্মিতা নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ও ইসরায়েলি হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে একটি জোরালো কূটনৈতিক প্রতিবাদ হিসেবেও দেখা হচ্ছে। করাচি ও ইসলামাবাদে চলমান বিক্ষোভের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্য দেশটির অভ্যন্তরীণ জনমতের প্রতিফলন হিসেবেও তাৎপর্যপূর্ণ।