― Advertisement ―

ইতিহাসের পাতায় মেলানিয়া ট্রাম্প: প্রথম ফার্স্ট লেডি হিসেবে সামলাবেন নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতিত্ব

বিশ্ব রাজনীতির ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় সূচিত হতে যাচ্ছে। জাতিসংঘের সবচেয়ে ক্ষমতাধর অঙ্গ সংস্থা ‘নিরাপত্তা পরিষদ’-এর সভাপতিত্বের আসনে বসতে যাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প। এটি কেবল একটি বৈঠক নয়, বরং গত আট দশকের ইতিহাসে প্রথম কোনো ফার্স্ট লেডি বা ফার্স্ট জেন্টলম্যানের বিশ্বশান্তি রক্ষার এই সর্বোচ্চ মঞ্চে নেতৃত্ব দেওয়ার নজিরবিহীন ঘটনা। আগামী সোমবার বিকেলে যখন মেলানিয়া ট্রাম্প সভাপতির হাতুড়ি হাতে তুলে নেবেন, তখন আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে এক নতুন মেরুকরণ প্রত্যক্ষ করবে বিশ্ব।

মার্চ মাসে ১৫ সদস্যের এই পরিষদের ঘূর্ণায়মান সভাপতিত্বের দায়িত্ব পেয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এই সুযোগে ওয়াশিংটন আলোচ্যসূচিতে অত্যন্ত সংবেদনশীল ও মানবিক একটি বিষয়কে প্রাধান্য দিয়েছে— ‘সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতিতে শিশু, প্রযুক্তি এবং শিক্ষা’। মেলানিয়া ট্রাম্পের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই বিশেষ বৈঠকে যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলে শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং শিক্ষার প্রসারে আধুনিক প্রযুক্তির ইতিবাচক ব্যবহার নিয়ে আলোচনা হবে। মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের পক্ষে রাজনৈতিক বিষয়ক আন্ডার-সেক্রেটারি রোজমেরি ডিকার্লো এই গুরুত্বপূর্ণ ব্রিফিং প্রদান করবেন।

মেলানিয়া ট্রাম্পের এই ভূমিকা তাঁর দীর্ঘদিনের ‘চিলড্রেন ফার্স্ট’ বা শিশুদের কল্যাণে নেওয়া উদ্যোগেরই একটি বৈশ্বিক প্রতিফলন। বিশেষ করে ইউক্রেন যুদ্ধে বাস্তুচ্যুত শিশুদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিতে রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের কাছে তাঁর চিঠির বিষয়টি আন্তর্জাতিক মহলে প্রশংসা কুড়িয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন জাতিসংঘের কার্যকারিতা এবং তহবিল নিয়ে সরব, তখন মেলানিয়া ট্রাম্পের এই সভাপতিত্ব বিশ্ব সংস্থার প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের এক ধরনের ‘সফট ডিপ্লোম্যাসি’ বা নমনীয় কূটনীতির বার্তা দিচ্ছে। একদিকে শতকোটি ডলারের বকেয়া ও আর্থিক সংকট, অন্যদিকে ফার্স্ট লেডির নেতৃত্বে মানবিক এজেন্ডা— এই দুইয়ের মেলবন্ধনে সোমবারের বৈঠকটি বিশ্ব ইতিহাসের এক নতুন মাইলফলক হতে চলেছে।