নারায়ণগঞ্জের রাজনীতির এক সময়ের প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব এবং সিটি করপোরেশনের টানা তিনবারের সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীর দীর্ঘ কারাবাস শেষে মুক্তির পথ প্রশস্ত হয়েছে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময়কার চারটি হত্যা মামলাসহ মোট পাঁচটি মামলায় তাঁকে জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার কাজলের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ এই আদেশ প্রদান করেন। দীর্ঘ আইনি জটিলতা এবং বারবার জামিন স্থগিতের পর উচ্চ আদালতের এই সিদ্ধান্ত আইভীর অনুসারী ও পরিবারের জন্য বড় ধরনের স্বস্তি বয়ে এনেছে।
উল্লেখ্য যে, গত বছরের ৯ মে ভোররাতে শহরের দেওভোগ এলাকার নিজস্ব বাসভবন ‘চুনকা কুটির’ থেকে আইভীকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর থেকে ধাপে ধাপে তাঁকে বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছিল। ফতুল্লা থানায় দায়ের করা বাসচালক আবুল হোসেন মিজি, আব্দুর রহমান, মো. ইয়াছিন এবং পারভেজ হত্যা মামলায় তাঁকে অভিযুক্ত করা হয়। এ ছাড়া সদর মডেল থানায় একটি হামলা ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার মামলাও তাঁর বিরুদ্ধে রয়েছে। আজকের আদেশের মাধ্যমে এই পাঁচটি মামলার প্রতিটিতেই তিনি জামিন পেলেন।
আদালতে আইভীর পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সারা হোসেন এবং মোতাহার হোসেন সাজু। এর আগেও তিনি কয়েকটি মামলায় জামিন পেলেও পরবর্তী সময়ে আপিল বিভাগে তা স্থগিত হয়ে গিয়েছিল। সাবেক এই মেয়র ২০০৩ সাল থেকে ২০০১১ সাল পর্যন্ত পৌর চেয়ারম্যান এবং পরবর্তীতে টানা তিন মেয়াদে সিটি করপোরেশনের মেয়রের দায়িত্ব পালন করেছেন। দীর্ঘ ২১ বছরের জনপ্রতিনিধিত্বের ক্যারিয়ারের পর এমন আইনি সংকট তাঁর রাজনৈতিক জীবনে এক নজিরবিহীন অধ্যায়। বর্তমান আদেশের ফলে তাঁর কারামুক্তিতে আর কোনো আইনি বাধা আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন আইনজীবীরা।



