― Advertisement ―

মস্কোর ওপর চাপ বাড়াতে বেইজিংয়ের দ্বারস্থ জার্মানি

বিশ্ব রাজনীতির এক অত্যন্ত সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) পা রাখলেন বেইজিংয়ের মাটিতে। দুই দিনের এই ঝটিকা সফরের নেপথ্যে কেবল দ্বিপাক্ষিক কূটনীতি নয়, বরং রয়েছে ইউরোপের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ রক্ষা এবং দীর্ঘ চার বছরের ইউক্রেন যুদ্ধের একটি গ্রহণযোগ্য রাজনৈতিক সমাধানের আকুতি। মের্ৎসের এই সফর এমন এক সময়ে হচ্ছে যখন ইউরোপীয় নেতারা বেইজিংকে মস্কোর ওপর চাপ সৃষ্টির জন্য অন্যতম প্রভাবক হিসেবে দেখছেন।

সফরের শুরুতেই মের্ৎস স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, ইউরোপের বার্তা এখন অভিন্ন। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোঁ এবং ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সাম্প্রতিক বেইজিং সফরের রেশ টেনেই মের্ৎস তাঁর অবস্থান তুলে ধরেছেন। তাঁর মূল লক্ষ্য—জার্মান কোম্পানিগুলোর জন্য চীনে একটি ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ বা সমতাভিত্তিক ব্যবসার পরিবেশ নিশ্চিত করা। বিশেষ করে বৈদ্যুতিক গাড়ি এবং সৌর প্যানেল শিল্পে চীনের ‘অতিরিক্ত উৎপাদন সক্ষমতা’ (Overcapacity) নিয়ে ইউরোপের যে উদ্বেগ রয়েছে, তা মের্ৎস সরাসরি বেইজিংয়ের শীর্ষ নেতৃত্বের সামনে উপস্থাপন করবেন। গত বছরের পরিসংখ্যানে জার্মানির বিশাল বাণিজ্য ঘাটতি এই আলোচনার প্রয়োজনীয়তাকে আরও উসকে দিয়েছে।

বাণিজ্যের পাশাপাশি আলোচনার টেবিলের বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ইউক্রেন সংকট। মের্ৎসের মতে, মস্কোর কান পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে এমন কণ্ঠস্বর এখন কেবল বেইজিংয়েরই আছে। যদিও চীন নিজেকে নিরপেক্ষ দাবি করে আসছে, কিন্তু ইউরোপ চায় বেইজিং রাশিয়ার ওপর আরও জোরালো চাপ সৃষ্টি করুক। অন্যদিকে, চীনের পক্ষ থেকে বহুপাক্ষিকতা রক্ষার আহ্বান জানানো হচ্ছে, যা মূলত যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান সুরক্ষাবাদের বিপরীতে একটি কৌশলগত অবস্থান। মের্ৎসের এই সফর কেবল জার্মানি নয়, বরং পুরো ইউরোপের সাথে চীনের ভবিষ্যতের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সম্পর্কের নতুন রূপরেখা তৈরি করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।