পূর্ব এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে আবারও উত্তেজনার পারদ চড়ছে। দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক অচলাবস্থা আর উত্তর কোরিয়ার ক্রমবর্ধমান পারমাণবিক হুমকির প্রেক্ষাপটে আগামী মার্চ মাসে এক বিশাল যৌথ সামরিক মহড়ার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়া। ‘ফ্রিডম শিল্ড’ নামের এই বার্ষিক বসন্তকালীন মহড়াটি আগামী ৯ থেকে ১৯ মার্চ পর্যন্ত কোরীয় উপদ্বীপে পরিচালিত হবে। সিউল ও ওয়াশিংটনের দাবি, এই মহড়া সম্পূর্ণ প্রতিরক্ষামূলক এবং এর মূল লক্ষ্য হলো দুই দেশের সম্মিলিত সামরিক সক্ষমতা যাচাই করা। তবে পিয়ংইয়ংয়ের কাছে এই মহড়া বরাবরই ‘আক্রমণের মহড়া’ হিসেবে বিবেচিত।
এবারের মহড়াটি এমন এক সময়ে হচ্ছে যখন উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন তাঁর ক্ষমতাসীন ওয়ার্কার্স পার্টির সম্মেলনে আগামী পাঁচ বছরের সামরিক ও পররাষ্ট্রনীতির ছক আঁকছেন। বিশ্লেষকদের ধারণা, কিম এই মহড়ার জবাবে আবারও ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা বা সামরিক শক্তির প্রদর্শনী করতে পারেন। বিশেষ করে দক্ষিণ কোরিয়ার বিরুদ্ধে তাঁর সাম্প্রতিক কঠোর অবস্থান এবং পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে আলোচনার অনাগ্রহ অঞ্চলটিকে এক অস্থির পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিয়েছে। উল্লেখ্য যে, ২০১৯ সালে ট্রাম্প-কিম শীর্ষ বৈঠক ভেস্তে যাওয়ার পর থেকে এই সংকট নিরসনে কোনো কার্যকর অগ্রগতি হয়নি।
‘ফ্রিডম শিল্ড’ মূলত একটি কম্পিউটার-সিমুলেশনভিত্তিক কমান্ড পোস্ট মহড়া হলেও, এর পাশাপাশি ‘ওয়ারিয়র শিল্ড’ নামে মাঠপর্যায়ের প্রশিক্ষণও (Field Training) পরিচালিত হবে। হাজার হাজার সেনার অংশগ্রহণে এই মহড়ায় উত্তর কোরিয়ার সম্ভাব্য পারমাণবিক হুমকি মোকাবিলা এবং যৌথ অপারেশনাল সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর জোর দেওয়া হবে। দক্ষিণ কোরিয়ার বর্তমান রাজনৈতিক নেতৃত্বে আন্তঃকোরীয় সংলাপের কিছুটা আগ্রহ থাকলেও, কিমের রাশিয়ার সঙ্গে ক্রমবর্ধমান ঘনিষ্ঠতা এবং ইউক্রেন যুদ্ধে মস্কোকে সহায়তার অভিযোগ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। সব মিলিয়ে আগামী মার্চের এই মহড়া কোরীয় উপদ্বীপের স্থিতিশীলতার জন্য এক বড় পরীক্ষা হতে যাচ্ছে।



