সুদানের দারফুর অঞ্চলের এল-ফাশার শহরটি এখন আর কেবল একটি মানচিত্রের নাম নয়, বরং এটি হয়ে উঠেছে আধুনিক ইতিহাসের এক বর্বরোচিত নিধনযজ্ঞের সাক্ষী। দীর্ঘ ১৮ মাসের অবরুদ্ধ দশা আর এরপর তিন দিনের সেই বিভীষিকাময় দখলের সময় যে রক্তগঙ্গা বয়ে গিয়েছিল, তার দায় এড়াতে পারছে না কুখ্যাত আধাসামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ)। এই নৃশংসতার দায়ে সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) আরএসএফ-এর চার শীর্ষ কমান্ডারের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ। এই পদক্ষেপটি বিশ্বজুড়ে যুদ্ধাপরাধীদের জন্য একটি শক্তিশালী বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
নিষেধাজ্ঞার তালিকায় সবচেয়ে আলোচিত নাম আরএসএফ উপ-কমান্ডার আবদেলরাহিম হামদান দাগলো, যিনি আরএসএফ প্রধানের আপন ভাই। ভিডিও ফুটেজে তাঁকে তাঁর যোদ্ধাদের নির্দেশ দিতে দেখা গেছে— “কাউকে বন্দি করার দরকার নেই, সবাইকে হত্যা করো।” এছাড়া ‘আবু লুলু’ নামে পরিচিত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আল-ফাতেহ আবদুল্লাহ ইদ্রিসের নামটিও এই তালিকায় রয়েছে। নিরাপত্তা পরিষদের ভাষ্যমতে, তিনি নিজেই অত্যন্ত নির্লিপ্তভাবে মানুষ হত্যার ভিডিও ধারণ করে তা প্রচার করেছেন, যা বিশ্ববিবেককে স্তম্ভিত করে দিয়েছে। তালিকায় থাকা অন্য দুই কমান্ডার হলেন গেদো হামদান আহমেদ এবং ফিল্ড কমান্ডার তিজানি ইব্রাহিম।
জাতিসংঘের তথ্যানুসন্ধানী মিশনের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে সেই ‘তিন দিনের বিভীষিকা’র চিত্র। সেখানে কেবল সাধারণ লড়াই হয়নি; বরং পরিকল্পিতভাবে জাঘাওয়া জাতিগোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে চালানো হয়েছে জাতিগত নিধন। নারীদের ওপর যৌন সহিংসতা, গণগ্রেপ্তার এবং তাৎক্ষণিক মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার মতো ঘটনা ছিল নিয়মিত। ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া এই সংঘাত সুদানকে বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম খাদ্যসংকট ও বাস্তুচ্যুতির মুখে ঠেলে দিয়েছে। জাতিসংঘের এই নিষেধাজ্ঞা অনুযায়ী, এই চার কমান্ডারের বিদেশের সমস্ত সম্পদ জব্দ করা হয়েছে এবং তাঁদের ভ্রমণে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। এটি কেবল শাস্তি নয়, বরং দারফুরের নির্যাতিত মানুষের জন্য ন্যায়বিচার পাওয়ার পথে একটি প্রাথমিক ধাপ।



