শ্রীলঙ্কার ইতিহাসের অন্যতম রক্তক্ষয়ী ট্র্যাজেডি—২০১৯ সালের ইস্টার সানডে বোমা হামলা। সেই ঘটনার প্রায় সাত বছর পর, এক নাটকীয় অভিযানে গ্রেপ্তার হলেন দেশটির সাবেক গোয়েন্দা প্রধান অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল সুরেশ সাল্লে। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) ভোরের আলো ফোটার আগেই রাজধানীর উপকণ্ঠ থেকে তাকে আটক করে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। ২৭৯ জন নিরীহ মানুষের প্রাণ কেড়ে নেওয়া সেই আত্মঘাতী হামলার পেছনে কোনো গভীর রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র ছিল কি না, সুরেশ সাল্লের গ্রেপ্তার সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে এক বিশাল বড় পদক্ষেপ।
সুরেশ সাল্লের বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড় দীর্ঘদিনের। ২০২৩ সালে ব্রিটিশ চ্যানেল ৪-এর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, সাল্লে এই হামলার পরিকল্পনাকারীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রেখেছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, তখনকার রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে দিতে এবং গোটাবায়া রাজাপাকসার ক্ষমতায় আসার পথ প্রশস্ত করতেই এই হামলাকে ‘ঘটে যেতে’ দেওয়া হয়েছিল। হামলার দুই দিন পরই রাজাপাকসা প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে আবির্ভূত হন এবং বিজয়ী হয়েই সাল্লেকে রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার (এসআইএস) প্রধানের পদে বসান। তবে বর্তমান প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিসানায়েকে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, ইস্টার হামলার প্রকৃত অপরাধীদের তিনি কাঠগড়ায় দাঁড় করাবেনই—সুরেশ সাল্লের গ্রেপ্তার সেই প্রতিশ্রুতিরই বাস্তবায়ন।
ইস্টার হামলার ক্ষত আজও শ্রীলঙ্কার জনমনে শুকায়নি। তিনটি গির্জা এবং তিনটি অভিজাত হোটেলে সেই আত্মঘাতী বিস্ফোরণ কেবল ৪৫ জন বিদেশিসহ ২৭৯ জনের প্রাণই কেড়ে নেয়নি, বরং দেশটির পর্যটন এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিকেও চুরমার করে দিয়েছিল। যদিও ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলো আগেভাগেই হামলার তথ্য দিয়েছিল, তবুও তখনকার প্রশাসনিক স্থবিরতা বা সম্ভবত কোনো ‘অদৃশ্য হাতের’ ইঙ্গিতে তা ঠেকানো হয়নি। সুরেশ সাল্লের জবানবন্দি থেকে এখন বেরিয়ে আসতে পারে সেই ভয়াবহ ষড়যন্ত্রের গোপন নথি। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং ভুক্তভোগী পরিবারগুলো এখন এই বিচারের দিকে চাতক পাখির মতো তাকিয়ে আছে।



