― Advertisement ―

ভারতের সঙ্গে চুক্তির প্রতিবাদে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সামনে ছাত্র জোটের বিক্ষোভ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরে রেল কানেকটিভিটি বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা চুক্তির প্রতিবাদে পুলিশের বাধা অতিক্রম করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে...

অর্থনীতির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান

দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও সামগ্রিক অর্থনীতির ক্রান্তিলগ্নে বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন গভর্নর হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন মো. মোস্তাকুর রহমান এফসিএমএ। মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব তাঁর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। ৩৩ বছরের দীর্ঘ ও বর্ণাঢ্য পেশাজীবী জীবনের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এই ব্যক্তিত্ব আগামী চার বছরের জন্য দেশের ব্যাংকিং ও আর্থিক খাতের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারক হিসেবে কাজ করবেন। তাঁর এই নিয়োগকে দেশের ঝিমিয়ে পড়া অর্থনীতিতে নতুন গতির সঞ্চার এবং আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।

মোস্তাকুর রহমানের জীবন ও কর্ম এক কথায় মেধা এবং কঠোর পরিশ্রমের মিশেল। ১৯৬৬ সালে জন্ম নেওয়া এই হিসাববিদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান বিভাগ থেকে উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করেছেন। একজন কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্ট (সিএমএ) হিসেবে তিনি কেবল করপোরেট জগতেই নয়, বরং দেশের শীর্ষ শিল্প সংগঠনগুলোতেও রেখেছেন নেতৃত্বের ছাপ। বিজিএমইএ, রিহ্যাব, আটাব এবং ডিসিসিআই-এর মতো প্রভাবশালী সংগঠনের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ সম্পৃক্ততা তাঁকে দেশের ব্যবসা ও বাণিজ্যের নাড়িনক্ষত্র বুঝতে সাহায্য করেছে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, নিয়োগের শর্ত হিসেবে তাঁকে অন্য সব পেশাগত ও প্রাতিষ্ঠানিক সম্পর্ক ত্যাগ করতে হবে, যা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিরপেক্ষতা বজায় রাখার জন্য অত্যন্ত জরুরি।

তবে মোস্তাকুর রহমানের সামনে চ্যালেঞ্জ কিন্তু পাহাড়সম। উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, খেলাপি ঋণের লাগাম টেনে ধরা এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ স্থিতিশীল রাখার মতো বিষয়গুলো তাঁর মেধার পরীক্ষা নেবে। বিশেষ করে নিয়ন্ত্রণ সংস্থা হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাথে কাজ করার পূর্ব অভিজ্ঞতা এবং আর্থিক তদারকি ও করপোরেট সুশাসনে তাঁর দখল এই চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলায় সহায়ক হবে। প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং নৈতিকতার প্রতি তাঁর আপসহীন অঙ্গীকার দেশের ভঙ্গুর ব্যাংকিং ব্যবস্থায় সাধারণ মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হবে—এমনই প্রত্যাশা সাধারণ নাগরিক থেকে শুরু করে দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ীদের।