― Advertisement ―

ভারতের সঙ্গে চুক্তির প্রতিবাদে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সামনে ছাত্র জোটের বিক্ষোভ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরে রেল কানেকটিভিটি বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা চুক্তির প্রতিবাদে পুলিশের বাধা অতিক্রম করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে...

রূপপুর প্রকল্পে নিয়োগ জালিয়াতি তদন্তে হাইকোর্টের নির্দেশ; নেতৃত্বে থাকবেন বিজ্ঞান সচিব

দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে ব্যয়বহুল ও স্পর্শকাতর মেগা প্রকল্প পাবনার ঈশ্বরদীর রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। জাতীয় নিরাপত্তার সাথে জড়িত এই প্রকল্পে জনবল নিয়োগে নজিরবিহীন অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগে এবার কঠোর অবস্থান নিয়েছেন উচ্চ আদালত। বিদ্যুৎকেন্দ্রটির রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনার জন্য গঠিত ‘নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড’ (এনপিসিবিএল)-এ নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তাদের যোগ্যতা ও নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে জনমনে ওঠা প্রশ্নের জেরে মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) হাইকোর্ট এক ঐতিহাসিক তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিবের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন। আদালত স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, আগামী দুই মাসের মধ্যে এই কমিটিকে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে হবে। মূলত একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত ‘মোটা অঙ্কের ঘুষে বড় পদ, জাল সনদে স্থায়ী চাকরি’ শীর্ষক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনকে কেন্দ্র করেই এই রিট আবেদনটি করা হয়েছিল। রিটকারীর আইনজীবী মাসুদ আহমেদ সাঈদ জানিয়েছেন, অত্যন্ত স্পর্শকাতর এই প্রকল্পে অদক্ষ ও ভুয়া সনদধারীদের নিয়োগ দেশের ভবিষ্যতের জন্য বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

অনুসন্ধানে উঠে এসেছে যে, ২০১৭ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে এনপিসিবিএল-এর মাধ্যমে প্রায় ১৮০০ জনবল নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক বিবেচনায় এবং বিপুল পরিমাণ ঘুষের বিনিময়ে অযোগ্য ব্যক্তিদের এখানে স্থায়ী করা হয়েছে। এমনকি অনেকের অভিজ্ঞতার সনদও ছিল ভুয়া। রাশিয়ার রোসাটম টেকনিক্যাল একাডেমিতে প্রশিক্ষণের জন্য যাদের পাঠানো হয়েছে, তাদের বড় একটি অংশের নিয়োগ প্রক্রিয়া ঘিরেই এখন প্রশ্ন উঠেছে। দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই স্থাপনার নিরাপত্তা ও স্থায়িত্ব রক্ষায় হাইকোর্টের এই হস্তক্ষেপ দুর্নীতিবাজ চক্রের জন্য এক শক্ত হুঁশিয়ারি হিসেবে দেখা হচ্ছে।