বাংলাদেশের সাম্প্রতিক নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ের পর রাষ্ট্র পরিচালনার এক নতুন দর্শন নিয়ে এগোচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দলটির মূল লক্ষ্য কেবল ক্ষমতায় থাকা নয়, বরং দীর্ঘদিনের জীর্ণ রাষ্ট্রীয় কাঠামোগুলোর আমূল পরিবর্তন। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার এক একান্ত সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, তাঁদের সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার হলো এমন সংস্কার বাস্তবায়ন করা যা পরিমাপযোগ্য এবং যা জনগণের হারানো আস্থা ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হবে। দীর্ঘ সময় ধরে প্রশাসনিক ও বিচারিক ব্যবস্থার ওপর মানুষের যে অনাস্থা তৈরি হয়েছে, তা দূর করাই এখন নতুন প্রশাসনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
ড. হায়দারের মতে, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সততা ফিরিয়ে আনা কোনো সহজ কাজ নয়। বছরের পর বছর ধরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, বিচার বিভাগ ও গণমাধ্যমের যে স্বাধীনতা খর্ব হয়েছে, তা পুনরুদ্ধারে প্রয়োজন স্বচ্ছতা ও নিয়মিত জনসম্পৃক্ততা। তিনি বিশ্বাস করেন, এবারের বিশাল নির্বাচনী ম্যান্ডেট বিএনপিকে নাগরিকদের অংশীদার করে দেশ গড়ার এক অনন্য সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে। তাঁর ভাষায়, “পরিবর্তন কেবল নীতিমালায় থাকলে চলবে না, তা মানুষের জীবনে দৃশ্যমান হতে হবে।” এ ক্ষেত্রে সংসদ সদস্যদের কেবল আইন প্রণেতা হিসেবে নয়, বরং নিজ নিজ এলাকায় সংস্কারের দূত হিসেবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তিনি।
পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে ড. হায়দার এক নতুন ভারসাম্যের কথা উল্লেখ করেছেন। ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ বা সবার আগে দেশ—এই নীতির আলোকে ভারত, চীন ও পাকিস্তানের সঙ্গে এক বাস্তববাদী ও মর্যাদাপূর্ণ সম্পর্ক গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। একই সাথে বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা, নির্বাহী ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ এবং যুব প্রজন্মের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটিয়ে একটি আধুনিক ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তোলাই তারেক রহমান সরকারের মূল লক্ষ্য। এই সংস্কার প্রক্রিয়ায় তরুণদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এবং অর্থনৈতিক আধুনিকায়নের মাধ্যমে একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার।



