বাংলাদেশের সংসদীয় রাজনীতির এক নতুন সূর্যোদয় হতে যাচ্ছে আগামী ১২ মার্চ। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনকে ঘিরে উৎসবের আমেজ থাকলেও পর্দার আড়ালে এক সাংবিধানিক প্রশ্ন বড় হয়ে দেখা দিয়েছে—অধিবেশনের শুরুর মুহূর্তে স্পিকারের আসনে কে বসবেন? সাধারণত বিদায়ী সংসদের স্পিকার নতুন সংসদের প্রথম বৈঠক শুরু করেন। কিন্তু এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। দ্বাদশ সংসদের স্পিকার পদত্যাগ করেছেন এবং ডেপুটি স্পিকার কারাগারে থাকায় অধিবেশনের সূচনালগ্নে সভাপতিত্ব নিয়ে তৈরি হয়েছে এক অনন্য চ্যালেঞ্জ।
সংবিধান ও সংসদের কার্যপ্রণালি বিধি অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি মনোনীত কোনো জ্যেষ্ঠ সদস্য এই ঐতিহাসিক সভার শুরুতে সভাপতিত্ব করতে পারেন। ১৯৭৩ সালের প্রথম সংসদের নজির টেনে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এবারও সরকারি দল বিএনপি ও বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর আলোচনার ভিত্তিতে কোনো অভিজ্ঞ সংসদ সদস্যকে এই দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদও ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, রেওয়াজ ও বিধান মেনেই এই সংকটের সমাধান করা হবে। অধিবেশনে কেবল নতুন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনই নয়, বরং অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কার অধ্যাদেশগুলোও বৈধতার জন্য উত্থাপন করা হবে।
অধিবেশনের শুরুতেই থাকবে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের ভাষণ। নিয়ম অনুযায়ী, স্পিকার নির্বাচনের পর বৈঠক সাময়িক মুলতবি রেখে রাষ্ট্রপতির কাছে শপথ নেবেন নতুন স্পিকার। এরপর তাঁর সভাপতিত্বে চলবে ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন ও ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর দীর্ঘ আলোচনা। এবারের সংসদে ২০৯টি আসন নিয়ে বিএনপি সরকারে এবং ৬৮টি আসন নিয়ে জামায়াত শক্তিশালী বিরোধী দলের ভূমিকায় থাকায় সংসদ বেশ প্রাণবন্ত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশেষ করে ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়ন ও রাষ্ট্র সংস্কারের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো এই অধিবেশনে মূল আলোচনার কেন্দ্রে থাকবে, যা দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এক মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হতে পারে।



