― Advertisement ―

ভারতের সঙ্গে চুক্তির প্রতিবাদে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সামনে ছাত্র জোটের বিক্ষোভ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরে রেল কানেকটিভিটি বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা চুক্তির প্রতিবাদে পুলিশের বাধা অতিক্রম করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে...

টিকিট কালোবাজারি ও দুর্নীতি দমনে জিরো টলারেন্স; রেলকে ঢেলে সাজাচ্ছে সরকার

বাংলাদেশ রেলওয়ের দীর্ঘদিনের ‘লোকসানী’ তকমা মুছে ফেলে একে একটি লাভজনক ও আন্তর্জাতিক মানের সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার ঘোষণা দিয়েছে বর্তমান সরকার। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর রেল ভবনে কর্মকর্তাদের সাথে এক নীতি-নির্ধারণী সভায় সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, রেলকে আর অবহেলার চোখে দেখার সুযোগ নেই। প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নির্দেশে রেলওয়ের অবকাঠামো ও যাত্রীসেবায় আমূল পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মন্ত্রী কর্মকর্তাদের স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন যে, কেবল পরিকল্পনার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে এখন থেকে কাজের ফলাফল দেখাতে হবে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির দেওয়া নির্বাচনী ইশতেহারে রেলওয়েকে জাতীয় পরিবহনের ‘কেন্দ্রীয় মেরুদণ্ড’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়নে এখন থেকেই কোমর বেঁধে নামছে মন্ত্রণালয়। মন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে টিকিট কালোবাজারি প্রতিরোধ এবং রেলের রন্ধ্রে রন্ধ্রে মিশে থাকা দুর্নীতি দমনে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। তিনি জানান, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রেলের স্বচ্ছতা ও যাত্রীসেবার মান নিশ্চিত করতে বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছেন। বিশেষ করে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে ডিজিটাল ম্যানেজমেন্টকে আরও শক্তিশালী করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর সামনে রেখে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নিরাপদ ও হয়রানিমুক্ত করতে রেল কর্মকর্তাদের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রী কেবল উৎসবকালীন প্রস্তুতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেননি, বরং আগামী ১৮০ দিনের মধ্যে নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে একটি কার্যকর ও দৃশ্যমান ‘অ্যাকশন প্ল্যান’ তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন। একইসাথে ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটের মতো গুরুত্বপূর্ণ করিডোরে ট্রেনের গতি বৃদ্ধি এবং যাত্রার সময় কীভাবে কমিয়ে আনা যায়, তা আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে খুঁজে বের করতে রেলওয়েকে আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছে। এটি সফল হলে দেশের অভ্যন্তরীণ যাতায়াত ও পণ্য পরিবহনে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের দুই প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ ও মো. রাজীব আহসানও সভায় উপস্থিত থেকে রেলের আধুনিকায়নে তাঁদের পূর্ণ সমর্থনের কথা জানান। রেল সচিবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় মহাপরিচালকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা একমত হয়েছেন যে, দুর্নীতির পথ বন্ধ করে সেবার মান বাড়াতে পারলে রেল অবশ্যই লাভের মুখ দেখবে। ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটের উন্নয়ন থেকে শুরু করে ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা—সব মিলিয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ে এখন এক নতুন দিগন্তের সন্ধানে যাত্রা শুরু করেছে।