ভোলার চরফ্যাশনের চরমানিকা ইউনিয়নে এক সংখ্যালঘু যুবককে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। গৌতম রায় (৩৪) নামের ওই যুবককে কেবল মারধরই করা হয়নি, বরং পরিকল্পিতভাবে ‘চোর’ সাজিয়ে ঘরের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রেখে জোরপূর্বক সাদা কাগজে ও স্ট্যাম্পে সই নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সকালে নিজের বাড়িতে এক সংবাদ সম্মেলনে গৌতম রায় এই লোমহর্ষক ঘটনার বর্ণনা দেন। তাঁর অভিযোগ, পৈতৃক জমি দখল করার দীর্ঘ চেষ্টার অংশ হিসেবেই স্থানীয় প্রভাবশালী আইয়ুব খান ও তাঁর সহযোগীরা এই হামলা চালিয়েছে।
গৌতম রায় জানান, গত বুধবার রাতে তিনি স্থানীয় ময়না বাজারে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বের হলে ওত পেতে থাকা আইয়ুব খানের লোকজন তাঁকে রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে যায়। একটি নির্জন বাড়িতে আটকে রেখে তাঁকে পৈতৃক জমির মালিকানা ছেড়ে দেওয়ার জন্য স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর দিতে চাপ দেওয়া হয়। গৌতম অস্বীকার করলে শুরু হয় অমানবিক নির্যাতন। তাঁকে চোর সাব্যস্ত করে গ্রামবাসীর সামনে হেয় করা হয় এবং গুরুতর আহত অবস্থায় ঘরের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছালে তাঁদেরও ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পরবর্তীতে তাঁকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
নির্যাতিত গৌতমের স্ত্রী কবিতা রায় সংবাদ সম্মেলনে কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি জানান, স্বামীকে প্রাণে বাঁচাতেই তিনি দস্যুদের শর্ত মেনে কাগজে সই করতে বাধ্য হয়েছিলেন। বর্তমানে ওই পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। হাসপাতাল থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরলেও অভিযুক্তরা পুনরায় তাঁদের বাড়িছাড়া করার হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সংবাদ সম্মেলনে গৌতম আক্ষেপ করে বলেন, এর আগেও তিনি নিরাপত্তার জন্য থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিলেন, কিন্তু তাতেও তাঁর ওপর এই বর্বরোচিত হামলা থামানো যায়নি।
অন্যদিকে, অভিযুক্ত আইয়ুব খান সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, গৌতম রায় রাতে চুরি করতে গিয়ে স্থানীয়দের হাতে ধরা পড়েছিলেন। তবে কোনো সুস্থ ব্যক্তিকে এভাবে ‘চোর’ সাজিয়ে নির্যাতন এবং সাদা কাগজে সই নেওয়া আইনের দৃষ্টিতে বড় অপরাধ। দক্ষিণ আইচা থানার ওসি জানিয়েছেন, লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। চরফ্যাশনের এই ঘটনাটি কেবল একটি জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ নয়, বরং প্রান্তিক জনপদে সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তার সংকটের চিত্রটিকেই আবার সামনে নিয়ে এসেছে।



