আর্জেন্টিনার আকাশ এখন কেবল মেঘে ঢাকা নয়, বরং টিয়ার গ্যাস আর বিক্ষোভের ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন। প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলে-র প্রস্তাবিত বিতর্কিত শ্রম সংস্কারের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র গণধর্মঘট। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) বুয়েনস আইরেসের রাস্তাগুলো ছিল অচেনা; যেখানে ট্রেনের চাকা ঘোরেনি, বহু ফ্লাইট বাতিল হয়েছে এবং উপচে পড়া আবর্জনার স্তূপ মনে করিয়ে দিচ্ছে জনজীবনের স্থবিরতাকে। প্রায় ৯০ শতাংশ কার্যক্রম বন্ধ থাকায় সাধারণ মানুষ ঘরবন্দি থাকলেও রাজপথ ছিল বিক্ষোভকারীদের দখলে।
বিক্ষোভের চরম রূপ দেখা যায় পার্লামেন্ট ভবনের সামনে। হাজার হাজার শ্রমিক যখন তাঁদের অধিকার রক্ষায় স্লোগান দিচ্ছিলেন, তখন পুলিশের জলকামান আর রাবার বুলেট সেই কণ্ঠস্বর দমানোর চেষ্টা করে। বিক্ষোভকারীদের ছোড়া পাথর ও বোতলের জবাবে পুলিশি অ্যাকশনে এলাকাটি কার্যত রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। দেশটির বৃহত্তম শ্রমিক সংগঠন সিজিটি-র দাবি, বর্তমান সরকারের মেয়াদে এটিই সবচেয়ে সফল ধর্মঘট। তবে এই সফলতার পেছনে লুকিয়ে আছে ৩ লাখ মানুষের কাজ হারানোর বেদনা এবং ২১ হাজার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়ার দীর্ঘশ্বাস।
সরকারের এই ‘চেইনসো’ বা কাটছাঁট নীতির মূল লক্ষ্য হলো নিয়োগ ও ছাঁটাই প্রক্রিয়াকে পানির মতো সহজ করা এবং শ্রমিকদের সুযোগ-সুবিধা কমিয়ে আনা। সরকারি ভাষ্যমতে, এতে করের চাপ কমবে এবং নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হবে। কিন্তু সাধারণ শ্রমিকের কাছে এই সংস্কার মানে হলো ছুটির সুবিধা হারানো এবং অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ। টায়ার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ‘ফেট’ (Fate) তাদের কারখানা বন্ধের যে ঘোষণা দিয়েছে, তা ৯০০টি পরিবারের উনুন নেভানোর মতোই ভয়াবহ।
প্রেসিডেন্ট মিলে যখন মূল্যস্ফীতি ১৫০ শতাংশ থেকে ৩২ শতাংশে নামিয়ে আনার সাফল্যের খতিয়ান দিচ্ছেন, ঠিক তখনই তাঁর দেশের মানুষ রাস্তায় নেমে বলছেন—সাফল্য যদি কেবল সংখ্যায় থাকে আর পেটে ক্ষুধা থাকে, তবে সেই উন্নয়ন কার জন্য? ধর্মঘটের দিন মিলে যখন যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে ব্যস্ত, তখন তাঁর নিজ দেশের নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্তরা নিজেদের শেষ সম্বল ‘শ্রম অধিকার’টুকু বাঁচিয়ে রাখতে লড়ছেন। আর্জেন্টিনার এই লড়াই কেবল একটি বিল পাসের বিরুদ্ধে নয়, এটি টিকে থাকার এক মরিয়া সংগ্রাম।



