নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ-১ আসনের রাজনৈতিক আঙিনায় এক অনন্য সৌজন্যের দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছে। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে গোলাকান্দাইল এলাকায় নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপুর বাসভবনে গিয়ে তাঁকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মনোনীত প্রার্থী মুফতি ইমদাদুল হক হাসেমী। নির্বাচনের মাঠে একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী হলেও, জয়ের পর এলাকার উন্নয়নে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করার এই সংকল্প স্থানীয়দের মাঝে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। এই সাক্ষাৎ কেবল একটি প্রথাগত রাজনৈতিক সৌজন্য ছিল না, বরং এটি ছিল রূপগঞ্জকে অপরাধমুক্ত ও বাসযোগ্য করার এক সম্মিলিত অঙ্গীকারের প্রতিফলন।
শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে মুফতি ইমদাদুল হক হাসেমী এক আবেগঘন বক্তব্যে বলেন, রূপগঞ্জের উন্নয়ন ও জনমানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের যে রূপরেখা তাঁরা ইশতেহারে তুলে ধরেছিলেন, তার সঙ্গে মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপুর পরিকল্পনা ও ইশতেহারের ব্যাপক মিল রয়েছে। তিনি স্পষ্ট করে জানান, একটি সমৃদ্ধ ও স্বপ্নের রূপগঞ্জ গড়ার লক্ষ্যে তাঁরা এই নতুন সংসদ সদস্যকে সব ধরনের সহযোগিতা দেবেন। রাজনৈতিক মতাদর্শ ভিন্ন হলেও জনস্বার্থে এমন ঐক্যবদ্ধ অবস্থান রূপগঞ্জের ইতিহাসে এক বিরল ঘটনা। বৈঠক শেষে দেশের কল্যাণ ও নতুন সংসদের সাফল্য কামনায় সেখানে এক বিশেষ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু তাঁর বক্তব্যে রূপগঞ্জের পুঞ্জীভূত সমস্যাগুলো নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, রূপগঞ্জের প্রধান অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে খাল দখল, চাঁদাবাজি এবং মাদক সিন্ডিকেট। এছাড়া ভূমি দস্যুতা, অস্ত্রবাজি এবং শিক্ষা ব্যবস্থার ভঙ্গুর দশা দূর করাই হবে তাঁর মেয়াদের প্রধান চ্যালেঞ্জ। দিপু ভূঁইয়া দৃঢ়তার সাথে বলেন, কোনো প্রভাবশালী মহলের রক্তচক্ষু তাঁকে দমাতে পারবে না। তবে এই বিশাল কর্মযজ্ঞ সফল করতে তিনি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের সক্রিয় সহযোগিতা ও সমর্থন কামনা করেন।
বৈঠকটিতে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী আন্দোলনের রূপগঞ্জ থানা শাখার শীর্ষ নেতৃবৃন্দ এবং ছাত্র আন্দোলনের প্রতিনিধিরা। রূপগঞ্জের বাসিন্দারা দীর্ঘকাল ধরে জমি দখল ও সন্ত্রাসবাদের যে ভয়ের সংস্কৃতিতে দিন অতিবাহিত করেছেন, সেখান থেকে মুক্তি পেতে এমন রাজনৈতিক সম্প্রীতিকে তাঁরা স্বাগত জানিয়েছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর এমন সমর্থন দিপু ভূঁইয়ার জন্য একটি নৈতিক বিজয় এবং আগামী দিনে প্রশাসন পরিচালনায় তাঁর হাতকে আরও শক্তিশালী করবে। রূপগঞ্জ এখন সন্ত্রাসমুক্ত এক নতুন ভোরের অপেক্ষায় প্রহর গুনছে।



