ভারত কি তবে রুশ তেল কেনা বন্ধ করে দিচ্ছে? মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এমন দাবি ঘিরে যখন আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে গুঞ্জন তুঙ্গে, তখন পরিস্থিতি স্পষ্ট করল রাশিয়া। মস্কো সরাসরি জানিয়ে দিয়েছে, ভারত রুশ তেল আমদানির বিষয়ে তাদের অবস্থান পরিবর্তন করেছে—এমনটা বিশ্বাস করার কোনো যুক্তিসঙ্গত কারণ নেই। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, রাশিয়ার জ্বালানি ক্রয় করা ভারতের নিজস্ব জাতীয় স্বার্থের বিষয় এবং এটি দুই দেশের জন্যই সমানভাবে উপকারী।
ঘটনার সূত্রপাত মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও-র একটি দাবিকে কেন্দ্র করে। ওয়াশিংটন দাবি করেছিল, নয়াদিল্লি নাকি রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল আমদানি বন্ধ করতে সম্মত হয়েছে। তবে রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা এই দাবিকে নস্যাৎ করে দিয়ে বলেন, “ভারত যে সরে এসেছে এমন কোনো প্রমাণ নেই। বরং রাশিয়ার হাইড্রোকার্বন ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক বাজারের স্থিতিশীলতা রক্ষায় সহায়ক।” জাখারোভা আরও কটাক্ষ করে বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও স্বাধীন দেশগুলোর ওপর নির্দেশ দেওয়ার যে সংস্কৃতি গড়ে তুলেছেন, তাতে নতুন কিছু নেই।
সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ফোনালাপের পর ভারতীয় পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক ৫০% থেকে কমিয়ে ১৮% করার ঘোষণা আসে। এর মধ্যেই অন্তর্ভুক্ত ছিল গত বছর রুশ তেল কেনার কারণে ভারতের ওপর আরোপিত ২৫% অতিরিক্ত শুল্ক প্রত্যাহার। এই শুল্ক হ্রাসের বিনিময়ে ভারত রুশ তেল কেনা বন্ধের কোনো প্রতিশ্রুতি দিয়েছে কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। মার্কো রুবিও একে ‘প্রতিশ্রুতি’ হিসেবে দাবি করলেও নয়াদিল্লি সাফ জানিয়ে দিয়েছে, জ্বালানি সংগ্রহের ক্ষেত্রে তাদের ‘জাতীয় স্বার্থই’ হবে প্রধান ধ্রুবক।
এই পুরো বিষয়ে ভারতের রহস্যময় নীরবতা কূটনীতিবিদদের ভাবিয়ে তুলছে। যুক্তরাষ্ট্র দাবি করলেও ভারত এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে তা স্বীকার বা অস্বীকার কোনোটাই করেনি। এর আগেও রাশিয়া অভিযোগ করেছিল যে, যুক্তরাষ্ট্র শুল্ক ও নিষেধাজ্ঞার ভয় দেখিয়ে বিভিন্ন দেশকে ‘জবরদস্তিমূলক’ উপায়ে রুশ তেল থেকে সরিয়ে আনার চেষ্টা করছে। ইউক্রেন ইস্যু এবং বৈশ্বিক জ্বালানি রাজনীতির এই খেলায় ভারত শেষ পর্যন্ত কোন দিকে হেলে, তা দেখতে মুখিয়ে আছে আন্তর্জাতিক মহল। তবে আপাতত রাশিয়ার দাবি—বন্ধুত্বের এই রসায়ন আগের মতোই অটুট।



