― Advertisement ―

ভারতের সঙ্গে চুক্তির প্রতিবাদে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সামনে ছাত্র জোটের বিক্ষোভ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরে রেল কানেকটিভিটি বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা চুক্তির প্রতিবাদে পুলিশের বাধা অতিক্রম করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে...

গণরায়ে শক্তিশালী পররাষ্ট্রনীতি: বিশ্বমঞ্চে শিরদাঁড়া খাড়া করে এগোবে বাংলাদেশ

বাংলাদেশের কূটনীতিতে এক নতুন এবং আত্মবিশ্বাসী অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে। নবনিযুক্ত পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম জানিয়েছেন, জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত সরকার রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকায় আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের অবস্থান এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি সুসংহত। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে গঠিত এই সরকার বাংলাদেশের শিরদাঁড়াকে শক্ত করেছে। একটি শক্তিশালী মেরুদণ্ড নিয়েই এখন থেকে বাংলাদেশ তার বৈদেশিক সম্পর্কের পথচলা অব্যাহত রাখবে।” তাঁর এই বক্তব্য মূলত দীর্ঘ সময় ধরে আন্তর্জাতিক চাপে থাকা বাংলাদেশের কূটনীতিতে এক ধরনের সার্বভৌমত্বের বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

শামা ওবায়েদ স্বীকার করেছেন যে, বর্তমানে বেশ কিছু দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক একটি চ্যালেঞ্জিং পর্যায়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তবে তিনি আশ্বস্ত করেছেন যে, সরকার এই সমস্যাগুলো সম্পর্কে পুরোপুরি সচেতন। জাতীয় মর্যাদা ও সম্মান অক্ষুণ্ণ রেখেই বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বিদ্যমান শীতল সম্পর্কগুলো স্বাভাবিক করার জন্য কাজ শুরু করেছে নতুন সরকার। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর মতে, কূটনীতি কেবল বন্ধুত্বের বিষয় নয়, বরং দেশের সম্মান বজায় রেখে স্বার্থ আদায় করাই হবে এই সরকারের মূল কৌশল। বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশ আর কোনো নতিস্বীকার করবে না, বরং সমমর্যাদার ভিত্তিতে সম্পর্ক গড়ে তুলবে।

বিদেশে গমনেচ্ছুক বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য একটি বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ভিসা সংক্রান্ত জটিলতা। শামা ওবায়েদ এই সমস্যার কথা উল্লেখ করে বলেন, বেশ কিছু দেশের সঙ্গে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে বর্তমানে যে স্থবিরতা বা জটিলতা বিরাজ করছে, তা নতুন সরকারের অগ্রাধিকার তালিকার ওপরের দিকে রয়েছে। জনগণের ভোগান্তি কমাতে এবং প্রবাসীদের যাতায়াত সহজতর করতে খুব শীঘ্রই সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে উচ্চপর্যায়ে আলোচনা শুরু হবে। তিনি বিশ্বাস করেন, একটি বৈধ ও নির্বাচিত সরকারের পক্ষ থেকে যখন প্রস্তাব পাঠানো হবে, তখন আন্তর্জাতিক অংশীদারদের আস্থাও বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে।

সরকারের এই কূটনৈতিক দর্শনের পেছনে রয়েছে সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের অনুসৃত বৈদেশিক নীতির মূল চেতনা। পররাষ্ট্র মন্ত্রী খলিলুর রহমানও ইতিপূর্বে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, বর্তমান সরকার একটি দায়িত্বশীল এবং জাতীয় স্বার্থনির্ভর কূটনৈতিক পথে ফিরে যাচ্ছে। ভারসাম্যপূর্ণ এবং বাস্তবমুখী পররাষ্ট্রনীতির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে হারানো বিশ্বাস পুনরুদ্ধার করাই এখন প্রধান লক্ষ্য। শামা ওবায়েদ ইসলামের এই দৃঢ় অবস্থান মূলত একটি নতুন বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবি, যা বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে নিজের অধিকার বুঝে নিতে বদ্ধপরিকর।