বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে নতুন মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এই সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। নির্বাচনের বিপুল গণরায়ের পর দায়িত্ব নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তাঁর সহকর্মীদের সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, জনগণের অগাধ বিশ্বাসের মর্যাদা দিতে সুশাসন ও জবাবদিহির কোনো বিকল্প নেই। বিশেষ করে আসন্ন রমজান মাসে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে সেহরি, ইফতার ও তারাবির সময় সারা দেশে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার কড়া নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। বৈঠকের পর শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক নুর সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান। প্রধানমন্ত্রীর এই প্রথম নির্দেশনা মূলত একটি জনবান্ধব ও সেবামুখী সরকার প্রতিষ্ঠার ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মন্ত্রিসভার এই বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী দুর্নীতির বিরুদ্ধে তাঁর ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি মন্ত্রীদের স্মরণ করিয়ে দেন যে, জনগণ কেবল ক্ষমতার পরিবর্তন চায়নি, বরং একটি স্বচ্ছ ও স্বজনপ্রীতিমুক্ত প্রশাসন চেয়েছে। তাই ব্যক্তিগত প্রভাবের ঊর্ধ্বে থেকে নিজ নিজ মন্ত্রণালয়ের কাজ পরিচালনার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। এ ছাড়া নির্বাচনের ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং স্বাস্থ্য কার্ডের মতো জনহিতকর কর্মসূচিগুলো দ্রুত দৃশ্যমান করার জন্য বিশেষ কর্মপরিকল্পনা তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এমনকি ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের কল্যানে সরকারের বিশেষ উদ্যোগগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের তাগিদও দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী, যা তৃণমূল পর্যায়ে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিদেশে নতুন শ্রমবাজার সম্প্রসারণ এবং মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের উন্নয়নেও বৈঠকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর প্রস্তাব করেছেন যে, মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমবাজার পুনরায় পূর্ণোদ্যমে চালুর জন্য প্রধানমন্ত্রীর একটি রাষ্ট্রীয় সফর অত্যন্ত কার্যকর হতে পারে। উল্লেখ্য যে, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সময় মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমবাজারের যে মজবুত ভিত্তি তৈরি হয়েছিল, তা পুনরুদ্ধারে প্রধানমন্ত্রী তাঁর কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করার বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছেন। এটি প্রবাসী কর্মীদের জন্য এবং দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়াতে একটি সম্ভাবনার নতুন দুয়ার খুলে দিতে পারে।
সরকারের গতিশীলতা নিশ্চিত করতে প্রতিমন্ত্রী ১৮০ দিনের একটি বিশেষ কর্মপরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। এই ছয় মাসের পরিকল্পনায় মূলত নির্বাচনের সময় দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলোর বাস্তবায়ন এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখার বিষয়েও কঠোর হুঁশিয়ারি এসেছে মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠক থেকে। সামগ্রিকভাবে, প্রথম বৈঠকের সুরটি ছিল কঠোর পরিশ্রম আর জনসেবার। তারেক রহমানের নেতৃত্বে এই নতুন সরকার যদি শুরু থেকেই এই দৃঢ়তা বজায় রাখতে পারে, তবে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের আকাঙ্ক্ষার বাংলাদেশ বিনির্মাণে এটি হবে একটি মাইলফলক।



