― Advertisement ―

২০ লক্ষাধিক টাকা মূল্যের ইয়াবাসহ আটক ৪

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকার খিলক্ষেত থানা এলাকা থেকে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ও ইয়াবা পরিবহণে ব্যবহৃত প্রাইভেটকারসহ চার মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ এর...

দ্রুত সংস্কার ও সুশাসনের অঙ্গীকার: ১৮০ দিনের রোডম্যাপ নিয়ে আসছে নতুন সরকার

বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এক নতুন গতির সঞ্চার করতে যাচ্ছে নবনির্বাচিত সরকার। দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই কোনো ধরনের সময়ক্ষেপণ না করে রাষ্ট্র সংস্কার ও জনকল্যাণে ঝাঁপিয়ে পড়ার স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত নতুন মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকে সরকার পরিচালনার প্রথম ১৮০ দিনের একটি সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা বা ‘রোডম্যাপ’ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। বৈঠক শেষে অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি সাংবাদিকদের জানান, জনগণের আকাশচুম্বী প্রত্যাশা পূরণে এই রোডম্যাপ হবে সরকারের প্রধান হাতিয়ার। প্রধানমন্ত্রী নিজেই খুব দ্রুত এই ১৮০ দিনের লক্ষ্যমাত্রা জাতির সামনে উপস্থাপন করবেন, যা মূলত নির্বাচনের সময় দেওয়া অঙ্গীকারগুলোর বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াকে গতিশীল করবে।

প্রতিমন্ত্রী সাকির বক্তব্যে উঠে এসেছে এক ভিন্নধর্মী প্রশাসনিক তৎপরতা। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, বর্তমান সরকার কেবল ক্ষমতা উপভোগের জন্য নয়, বরং সেবা দেওয়ার জন্য দায়বদ্ধ। যেহেতু আগামীকাল থেকেই পবিত্র রমজান শুরু হচ্ছে, তাই সরকারের তাৎক্ষণিক মনোযোগ এখন সাধারণ মানুষের প্রতিদিনের জীবনযাত্রার ওপর। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ নিশ্চিত করা, বাজার সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখাকে এই মুহূর্তে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। জনগণের কষ্টের লাঘব ঘটাতে প্রতিটি মন্ত্রণালয় ও সরকারি দপ্তরকে সমন্বিতভাবে কাজ করার কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। জোনায়েদ সাকির মতে, মানুষ যে আশা নিয়ে এই সরকারকে ম্যান্ডেট দিয়েছে, তার প্রতি সম্মান জানাতে কোনো ধরনের অপ্রয়োজনীয় কালক্ষেপণ করার বিলাসিতা সরকারের নেই।

দুর্নীতির প্রশ্নে নতুন সরকারের অবস্থান হবে আপসহীন। জোনায়েদ সাকি জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মন্ত্রিসভার সদস্যদের অত্যন্ত কঠোরভাবে সতর্ক করেছেন। কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা মহলের অপতৎপরতার কারণে যেন সরকারের স্বচ্ছ ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন না হয়, সে বিষয়ে প্রতিটি মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীকে সজাগ থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরকার একটি ‘ক্লিন সরকার’ বা স্বচ্ছ প্রশাসন উপহার দেওয়ার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তা কেবল কথার কথা হয়ে থাকবে না; বরং এর প্রতিফলন ঘটবে প্রতিটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে এই কঠোর অবস্থানই হবে ১৮০ দিনের রোডম্যাপের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ। সরকার চায় শুরু থেকেই একটি উদাহরণ তৈরি করতে, যেখানে ক্ষমতার চেয়ে সেবাই হবে মুখ্য।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই ১৮০ দিনের রোডম্যাপে থাকবে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা এবং তা অর্জনের সময়সীমা। জোনায়েদ সাকি জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে এই পরিকল্পনার খসড়া নিয়ে আলোচনা শুরু করেছেন এবং খুব শীঘ্রই তা মন্ত্রিসভায় চূড়ান্তভাবে উপস্থাপন করা হবে। এটি কেবল একটি প্রশাসনিক দলিলে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন, বাজার তদারকি জোরদার এবং দ্রব্যমূল্য সহনীয় রাখার মতো দৃশ্যমান কাজগুলো এই সময়ের মধ্যেই শুরু হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে এখনই প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ১৮০ দিনের এই পরীক্ষা মূলত নতুন সরকারের সক্ষমতা এবং জনগণের আস্থার প্রতিফলন ঘটানোর প্রথম বড় চ্যালেঞ্জ হতে যাচ্ছে।