ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি অত্যন্ত কড়া সুরে অভিযোগ করেছেন যে, শান্তি আলোচনার নামে যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়াকে ছেড়ে ইউক্রেনকেই বারবার আপস বা ‘ছাড়’ দেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছে। মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে দেওয়া এক আবেগঘন ও তীক্ষ্ণ ভাষণে তিনি সতর্ক করে বলেন, কেবল একপাক্ষিক ছাড় দিয়ে স্থায়ী শান্তি সম্ভব নয়; বরং ইউক্রেনের জন্য প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদী এবং নিরেট নিরাপত্তার নিশ্চয়তা।
আগামী সপ্তাহে জেনেভায় ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় একটি ত্রিপাক্ষিক বৈঠক হওয়ার কথা থাকলেও জেলেনস্কি এর প্রক্রিয়া নিয়ে নাখোশ। তিনি ১৯৩৮ সালের সেই মিউনিখ চুক্তির কথা মনে করিয়ে দিয়ে বলেন, সেদিন চেকোস্লোভাকিয়াকে যেভাবে বলি দেওয়া হয়েছিল, ইউক্রেনকে বিভক্ত করে তেমন কোনো মেকি শান্তি আনার চেষ্টা করা হলে তা হবে একটি বড় ভ্রম। জেলেনস্কি মনে করেন, এই আলোচনায় ইউরোপীয় দেশগুলোর অনুপস্থিতি একটি বড় কৌশলগত ভুল, যা রাশিয়ার পাল্লাকেই ভারী করছে।
আলোচনার মূল অমিল এখন দোনেৎস্ক অঞ্চল থেকে সেনা প্রত্যাহার এবং পরবর্তী নিরাপত্তা গ্যারান্টি নিয়ে। ইউক্রেন ২০ বছরের গ্যারান্টি চাইলেও ওয়াশিংটন দিচ্ছে ১৫ বছরের প্রস্তাব। এদিকে পুতিন ইউক্রেনের মাটিতে কোনো বিদেশি সেনার উপস্থিতির ঘোর বিরোধী। জেলেনস্কি পুতিনকে ‘যুদ্ধের দাস’ আখ্যা দিয়ে অভিযোগ করেন যে, রুশ প্রতিনিধি দলে শেষ মুহূর্তের পরিবর্তন কেবল সময়ক্ষেপণের একটি চাল। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, যেকোনো চূড়ান্ত চুক্তির আগে দেশে নির্বাচন, গণভোট এবং বন্দি বিনিময় অপরিহার্য।



