ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষ হওয়ার মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দেশের ৩০টি জেলায় সহিংসতার এক ভয়াবহ চিত্র ফুটে উঠেছে। নির্বাচন পর্যবেক্ষণ সংস্থা হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস) জানিয়েছে, এই অল্প সময়েই দুই শতাধিক সংঘাতের ঘটনা ঘটেছে, যেখানে ঝরেছে তিনটি তাজা প্রাণ। মুন্সিগঞ্জ ও বাগেরহাটে দুই যুবক এবং ময়মনসিংহে একটি নিষ্পাপ শিশুর মৃত্যু আমাদের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ওপর এক বড় কলঙ্ক। এছাড়া নোয়াখালীতে এক নারী ধর্ষণের শিকার হওয়ার মতো ন্যাক্কারজনক অভিযোগও সামনে এসেছে।
রাজনৈতিক আদর্শের লড়াই যখন ব্যক্তিগত আক্রোশে রূপ নেয়, তখন তার ফল হয় অত্যন্ত করুণ। এইচআরএসএস-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই সহিংসতায় কেবল প্রাণহানিই ঘটেনি, বরং ৩৫০টি ঘরবাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের পরিশ্রমে গড়া সম্পদ মুহূর্তেই ছাই হয়ে গেছে। এই ধ্বংসযজ্ঞে বিএনপি, জামায়াত ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের জড়িত থাকার তথ্য মিলেছে, যা রাজনৈতিক সহনশীলতার চরম অভাবকেই নির্দেশ করে।
একটি সুস্থ নির্বাচনে জয়-পরাজয় থাকবেই, কিন্তু সেই জয় উদযাপনের নামে অন্যের জানমালের ক্ষতি করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এইচআরএসএস-এর নির্বাহী পরিচালক এজাজুল ইসলাম সংবাদ সম্মেলনে যে তথ্য দিয়েছেন, তা দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা। ভোট দেওয়া যেখানে নাগরিকের পবিত্র অধিকার, সেখানে ভোট পরবর্তী এই রক্তপাত সাধারণ মানুষের মনে ভীতির সঞ্চার করেছে। রাষ্ট্র ও রাজনৈতিক দলগুলোর এখনই উচিত কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া, যাতে রাজনীতির ময়দানে আর কোনো মায়ের বুক খালি না হয়।



