বিশ্ব যখন করোনা মহামারির কবলে দিশেহারা, মানুষ যখন জীবিকা হারিয়ে হাহাকার করছে, ঠিক সেই সংকটকালীন মুহূর্তে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের টিকিয়ে রাখতে নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্য সরকার ‘এম্পায়ার স্টেট ডেভেলপমেন্ট প্যান্ডেমিক স্মল বিজনেস রিকভারি গ্র্যান্ট প্রোগ্রাম’ চালু করেছিল। কিন্তু মানবতার সেই সেবাকে পুঁজি করে ব্যক্তিগত আখের গুছিয়ে নেওয়ার এক ন্যাক্কারজনক চিত্র উঠে এসেছে কুইন্স সুপ্রিম কোর্টে। ৯ জন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, যাদের মধ্যে ৮ জনই বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত, সরকারি প্রায় ১১ লাখ ডলার আত্মসাতের দায়ে দোষ স্বীকার করেছেন।
তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এক সুসংগঠিত জালিয়াতির গল্প। ২০২০ সালের জুন মাস থেকে আসামিরা ভুয়া ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের নামে সাহায্যের আবেদন করতে শুরু করেন। কাগজে-কলমে দেখানো হয়েছিল, প্রাপ্ত অর্থ কর্মচারীদের বেতন, অফিস ভাড়া এবং আনুষঙ্গিক বিল পরিশোধে ব্যয় হবে। কিন্তু বাস্তবে তহবিল পাওয়ার পরপরই সেই অর্থ আসামিদের ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তর করা হয়। এমনকি ট্যাক্স রেকর্ড ও ব্যাংক নথিতে দেখা যায়, সাহায্যের আবেদন করার আগে এসব প্রতিষ্ঠানের কোনো বাস্তব বাণিজ্যিক অস্তিত্বই ছিল না।
কুইন্স ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি মেলিন্ডা ক্যাটজ এই অপরাধকে ‘গুরুতর’ আখ্যা দিয়ে বলেছেন, একটি নজিরবিহীন সংকটের সময় মানুষের করের টাকা চুরি করা কেবল অপরাধ নয়, এটি নৈতিক অবক্ষয়ের চরম সীমা। দোষ স্বীকার করা আসামিদের মধ্যে মাহবুব মালিক, তোফায়েল আহমেদ এবং জাকির চৌধুরীর মতো নামগুলো উঠে এসেছে। আদালত তাঁদের মোট ১০ লাখ ৯১ হাজার ৭২০ ডলার জরিমানা করেছেন। ইতিমধ্যে তাঁরা বড় একটি অংশ পরিশোধও করেছেন।
তবে এই মামলার পেছনে রয়েছে অভ্যন্তরীণ তিক্ততা ও দোষারোপের পালা। আসামি জাকির চৌধুরী তাঁর সাবেক পার্টনার খোকন আশরাফকে এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী করেছেন। জাকিরের দাবি, তাঁর অফিসের নাম ব্যবহার করে খোকনই অনুদান নেওয়ার ব্যবস্থা করেছিলেন এবং পরে অর্থের অর্ধেক আত্মসাৎ করেছিলেন। বদনাম এড়াতে এবং দীর্ঘ আইনি লড়াই থেকে বাঁচতে তিনি জরিমানা পরিশোধ করে বিষয়টি মীমাংসা করছেন। অন্যদিকে খোকন আশরাফ জানিয়েছেন, তিনি সবার আগে জরিমানার অর্থ পরিশোধ করে বিষয়টির ইতি টেনেছেন।
এই ঘটনাটি প্রবাসে বাংলাদেশিদের ভাবমূর্তিকে যেমন ক্ষতিগ্রস্ত করেছে, তেমনি দুর্যোগকালীন তহবিলের অপব্যবহারের বিরুদ্ধে মার্কিন প্রশাসনের জিরো টলারেন্স নীতিকে আবারও স্পষ্ট করে তুলেছে। নিউইয়র্ক স্টেট ইন্সপেক্টর জেনারেল লুসি ল্যাং কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, জনস্বার্থের পরিপন্থী এ ধরনের অপরাধ কখনোই ক্ষমার যোগ্য নয়।



