― Advertisement ―

পারভীন হত্যা: খুনি রসু খাঁর মৃত্যুদণ্ড বহাল হাই কোর্টে

চাঁদপুরের পারভীন হত্যা মামলায় আলোচিত খুনি রসু খাঁর মৃতুদণ্ড বহাল রেখেছে হাই কোর্ট।মঙ্গলবার বিচারপতি সৈয়দ মো. জিয়াউল করিম ও বিচারপতি কে এম ইমরুল কায়েশের...

চরফ্যাশনে খাসি নিয়ে বিরোধের জেরে সাবেক যুবলীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা

ভোলার চরফ্যাশনে রাজনীতির মাঠ যখন নতুন সমীকরণে ব্যস্ত, ঠিক তখনই রসুলপুর ইউনিয়নের এক নিভৃত পল্লিতে ঘটে গেল এক হৃদয়বিদারক ঘটনা। নিহত ব্যক্তির নাম আবদুর রহিম (৪৫), যিনি স্থানীয়ভাবে যুবলীগের রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলেন। তবে তাঁর মৃত্যু কেবল একটি রাজনৈতিক পরিসংখ্যান নয়, বরং এর পেছনে লুকিয়ে আছে এক তুচ্ছ অথচ ভয়াবহ প্রতিহিংসার গল্প।

ঘটনার শুরু হয় নির্বাচনের ঠিক আগের দুই রাতে। অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি জোর করে আবদুর রহিমের পালন করা দুটি খাসি জবাই করে খেয়ে ফেলেন। অভাবের সংসারে পরম মমতায় লালন করা ছাগল দুটির এমন করুণ পরিণতি রহিম মেনে নিতে পারেননি। তিনি প্রতিবাদ করেছিলেন। কিন্তু সেই প্রতিবাদের মূল্য দিতে হয় তাঁর সন্তান আমির হোসেনকে। গত শুক্রবার রাতে আমিরকে পৈশাচিক কায়দায় পিটিয়ে তাঁর মুখের হাড় ও চোয়াল ভেঙে দেওয়া হয়। গুরুতর আহত আমির যখন ঢাকায় হাসপাতালের বিছানায় যন্ত্রণায় ছটফট করছেন, ঠিক তখনই তাঁর বাবার ওপর নেমে আসে চূড়ান্ত আঘাত।

শনিবার রাত ১০টার দিকে স্থানীয় দোকান থেকে চা খেয়ে বাড়ি ফিরছিলেন রহিম। বাড়ির কাছাকাছি পৌঁছাতেই ওত পেতে থাকা ঘাতকেরা তাঁকে ঘিরে ধরে। রহিমের মেয়ে বিবি রহিমার ভাষ্যমতে, অন্ধকারের মধ্যে “আল্লাগো” বলে বাবার শেষ চিৎকার শুনে তিনি যখন ঘর থেকে বেরিয়ে আসেন, তখন দেখেন ঘাতক বিল্লাল হোসেন পালিয়ে যাচ্ছে। বাবার গলা ও মাথায় দায়ের কোপে ফিনকি দিয়ে রক্ত ছুটছিল। রহিমা নিজের গায়ের ওড়না দিয়ে বাবার গলা পেঁচিয়ে ধরে চিৎকার করে সাহায্য চেয়েছিলেন, কিন্তু ভয়ে কেউ এগিয়ে আসেনি। পরে স্বজনদের সহায়তায় হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের পরিবারের দাবি, এই হত্যাকাণ্ডে জড়িতরা স্থানীয় নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য নুরুল ইসলামের (নয়ন) অনুসারী। যদিও স্থানীয় বিএনপি নেতারা এই দাবি অস্বীকার করে ঘটনাটিকে ‘মাদক ব্যবসা সংক্রান্ত কোন্দল’ বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছেন। তবে নিহতের স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে শশীভূষণ থানার আকাশ। তাঁদের একটাই প্রশ্ন—কেবল একটি প্রতিবাদের কারণে কি এভাবে প্রাণ দিতে হয়? আবদুর রহিমের ভাই মফিজুল ইসলাম বলেন, “আমরা বিএনপির অনুসারী হলেও আমার ভাই আওয়ামী লীগকে পছন্দ করত। সে মাটি কাটার কাজ করত, ছাগল পালত।” এক সময়কার সক্রিয় রাজনীতি ছেড়ে সাধারণ জীবন যাপন করা এই মানুষটিকে যেভাবে প্রাণ দিতে হলো, তা রাজনৈতিক শিষ্টাচার ও মানবিকতার চরম অবক্ষয়কেই নির্দেশ করে।