রাজনীতিতে হার-জিত থাকবেই, কিন্তু সৌজন্যবোধ টিকে থাকে আজীবন—এই চিরন্তন সত্যটিই যেন নতুন করে প্রমাণ করলেন সুনামগঞ্জ-২ আসনের জামায়াত প্রার্থী শিশির মনির। নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর শুক্রবার সকালে তিনি এক অনন্য নজির স্থাপন করেন। নিজের পরাজয়কে হাসিমুখে মেনে নিয়ে তিনি সরাসরি বিজয়ী বিএনপি প্রার্থী নাছির উদ্দিন চৌধুরীর বাসায় উপস্থিত হন। কেবল ফুলেল শুভেচ্ছা জানানোই নয়, নিজ হাতে নাছির চৌধুরীকে মিষ্টিমুখ করিয়ে দিরাই-শাল্লার রাজনৈতিক আকাশে সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দেন এই আইনজীবী।
বেসরকারি ফলাফলে দেখা গেছে, ধানের শীষ প্রতীকে নাছির উদ্দিন চৌধুরী ৯৯ হাজার ৫২২ ভোট পেয়ে বড় জয় পেয়েছেন। অন্যদিকে তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী শিশির মনির পেয়েছেন ৬৩ হাজার ২২০ ভোট। নির্বাচনের মাঠের তীব্র লড়াই শেষে শিশির মনিরের এমন সৌজন্যবোধ দেখে মুগ্ধ স্থানীয় সাধারণ মানুষ। তিনি বলেন, “ব্যক্তিগত লড়াই থাকলেও দিরাই-শাল্লার উন্নয়নের স্বার্থে আমরা একই পরিবারের সদস্য। এলাকার প্রয়োজনে আমি সবসময় নাছির ভাইয়ের পাশে থাকব।”
অন্যদিকে অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ নাছির চৌধুরীও এই অভিবাদনকে উষ্ণভাবে গ্রহণ করেছেন। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, দিরাই-শাল্লা একসময় রাজনীতির ‘তীর্থভূমি’ হিসেবে পরিচিত ছিল। ৩০ বছর আগে ১৯৯৬ সালে সুরঞ্জিত সেনগুপ্তকে হারানোর স্মৃতি আজ আবার ফিরে এসেছে তাঁর জয়ের মধ্য দিয়ে। তবে নাছির চৌধুরী মনে করেন, এই বিজয় তাঁর একার নয়, বরং দিরাই-শাল্লার হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে সব শান্তিকামী মানুষের। দুই নেতার এই হৃদ্যতা দেখে স্থানীয়রা বলছেন—রাজনীতি হোক এমনই, যেখানে ব্যক্তি স্বার্থের চেয়ে এলাকার উন্নয়নই হবে বড় লক্ষ্য।



