একটি দীর্ঘ প্রতীক্ষা আর আন্দোলনের পর আজ যেন নতুন এক সূর্যোদয় দেখল বাংলাদেশ। রাজধানী ঢাকার গুলশান মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে বৃহস্পতিবার সকালে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করলেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। ভোট দিয়ে বের হওয়ার সময় তাঁর চোখেমুখে ছিল প্রশান্তির ছাপ, পাশে ছিলেন মেয়ে দিনা ইউনূস। সাংবাদিকদের সামনে দাঁড়িয়ে তিনি আবেগমথিত কণ্ঠে বলেন, “আজ নতুন বাংলাদেশের জন্মদিন। এটি আমার জীবনের এবং প্রতিটি বাংলাদেশির জন্য এক মহা আনন্দের দিন।”
সকাল ১০টা ২০ মিনিটে কেন্দ্রে পৌঁছানোর ৫ মিনিট পরই তিনি সংসদীয় আসনের প্রার্থী এবং গণভোটের ব্যালটে সিল মারেন। অধ্যাপক ইউনূস মনে করেন, এই ভোটের মাধ্যমে জাতি তার ‘দুঃস্বপ্নময় অতীতকে’ পেছনে ফেলে নতুন এক ভোরে পা রাখল। কেবল প্রার্থী নির্বাচন নয়, জুলাই জাতীয় সনদের ওপর গণভোটকে তিনি দেখছেন রাষ্ট্র সংস্কারের মূল চাবিকাঠি হিসেবে। তাঁর মতে, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই বাংলাদেশ সম্পূর্ণরূপে পাল্টে যাবে এবং প্রতিটি পদক্ষেপে নতুন কিছু গড়ার সুযোগ তৈরি হবে।
ভোটের পরিবেশকে তিনি একটি জাতীয় উৎসবের সঙ্গে তুলনা করেছেন। কথোপকথনের একপর্যায়ে যখন চারপাশ থেকে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়ে, তখন তিনি হাসিমুখে সবাইকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “ঈদ মোবারক।” ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে এই দিনটিকে তিনি মুক্তির দিন এবং নতুন স্বপ্নের শুরুর দিন হিসেবে অভিহিত করেন। প্রতিটি নাগরিককে এই উৎসবে শামিল হয়ে নতুন বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি তাঁর সংক্ষিপ্ত বক্তব্য শেষ করেন।



