ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ) আসনের নির্বাচনী সমীকরণ এক রাতে সম্পূর্ণ বদলে গেছে। জাতীয় পার্টির (জাপা) প্রার্থী জিয়াউল হক মৃধা নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণার পর, জাপার স্থানীয় কয়েক শ নেতা-কর্মী দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে স্বতন্ত্র প্রার্থী রুমিন ফারহানাকে সমর্থন দিয়েছেন। সোমবার রাতে সরাইলের শাহবাজপুরে রুমিনের প্রধান নির্বাচনী কার্যালয়ে জাপার কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল হামিদ ভাসানীর নেতৃত্বে এক বিশাল দল রুমিনকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেন। এর ফলে লাঙ্গল প্রতীকের ভোটার ও নেতা-কর্মীরা এখন সম্মিলিতভাবে রুমিনের ‘হাঁস’ প্রতীকের পক্ষে প্রচারণায় নামছেন, যা এই আসনের ভোটের লড়াইকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে।
জাতীয় পার্টির এই সমর্থনের নেপথ্যে দলীয় মহাসচিব শামীম হায়দার পাটওয়ারীর নির্দেশ কাজ করেছে বলে জানিয়েছেন জাপা নেতা আবদুল হামিদ ভাসানী। তিনি মনে করেন, সরাইল ও আশুগঞ্জের সাধারণ মানুষের কাছে রুমিন ফারহানাই সবচেয়ে নিরাপদ ও যোগ্য বিকল্প। উল্লেখ্য, এর আগে গত রোববার জিয়াউল হক মৃধা প্রচারণায় বাধা এবং নেতা-কর্মীদের ওপর হুমকির অভিযোগ তুলে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছিলেন। জাপার এই আকস্মিক নৈতিক সমর্থন রুমিন ফারহানার জন্য কেবল শক্তির যোগান নয়, বরং প্রতিদ্বন্দ্বী শিবিরের জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তবে সমর্থনের আনন্দ ছাপিয়ে রুমিন ফারহানা ভোট কারচুপির আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন যে, শেষ মুহূর্তে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা জয়ের জন্য কালো টাকা ছড়াচ্ছেন এবং পেশিশক্তির ব্যবহার করছেন। বর্তমানে এই আসনে মূল লড়াই জমে উঠেছে স্বতন্ত্র প্রার্থী রুমিন ফারহানা এবং বিএনপি জোট সমর্থিত জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের প্রার্থী মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিবের মধ্যে। জাতীয় পার্টির নেতা-কর্মীরা নির্বাচনী এলাকার ১৯টি ইউনিয়নেই রুমিনের পক্ষে কাজ করার ঘোষণা দেওয়ায় এখন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের ভোটের পাল্লা কোন দিকে হেলে, তা দেখতে মুখিয়ে আছে গোটা জেলা।



