সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে টানা চার দিনের ছুটি মেলায় শিল্পাঞ্চল গাজীপুরে যেন মানুষের মেলা বসেছে। সোমবার বিকেল থেকেই কারখানাগুলো ছুটি হতে শুরু করলে লাখ লাখ শ্রমিক ও সাধারণ মানুষ নাড়ির টানে গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন। তবে আনন্দের এই যাত্রায় কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে দুই মহাসড়কের প্রায় ৫০ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজট। ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে যানবাহন কোথাও ঠায় দাঁড়িয়ে আছে, আবার কোথাও চলছে কচ্ছপ গতিতে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা বাসের অপেক্ষায় থেকে অবশেষে যখন গাড়ি মিলছে, তখন ভাড়ার কথা শুনে যাত্রীদের আকাশ ভেঙে পড়ছে।
অভিযোগ উঠেছে যে, পরিবহন সংশ্লিষ্টরা এই সংকটকে পুঁজি করে সিন্ডিকেট তৈরি করেছেন। ৫০০ টাকার গন্তব্যে ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত ভাড়া হাঁকা হচ্ছে। ভাড়ার এই নৈরাজ্যে অতিষ্ঠ হয়ে চান্দনা চৌরাস্তা ও মাওনা এলাকায় ক্ষুব্ধ যাত্রীরা কিছু সময়ের জন্য সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভও করেছেন। তারা বলছেন, দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থেকেও ন্যায্য ভাড়ায় কোনো গাড়িতে উঠতে পারছেন না। এমনকি বাধ্য হয়ে অনেকে খোলা ট্রাক বা পিকআপ ভ্যানে করেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রওনা হচ্ছেন।
পরিস্থিতি সামাল দিতে হাইওয়ে ও মহানগর পুলিশের সদস্যরা চন্দ্রা, ভোগড়া ও চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। নাওজোর হাইওয়ে থানার ওসি জানিয়েছেন, একযোগে কয়েক হাজার কারখানা ছুটি হওয়ায় গাড়ির চাপ স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেড়ে গেছে। যানজট নিরসনের পাশাপাশি যারা অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে, তাদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে প্রশাসন। তবে তীব্র রোদে দীর্ঘ জ্যাম আর পকেটের ওপর বাড়তি ভাড়ার চাপ—সব মিলিয়ে সাধারণ মানুষের এই ঈদ-পূর্ববর্তী ঘরমুখো যাত্রা এক নিদারুণ ভোগান্তির নামান্তর হয়ে দাঁড়িয়েছে।



