আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে সামনে রেখে চট্টগ্রামে এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে ভোট কারচুপির গভীর আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও চট্টগ্রাম-১১ আসনের প্রার্থী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। সোমবার সকালে নগরের মেহেদীবাগের বাসভবনে আয়োজিত এই সভায় তিনি দাবি করেন, পর্দার আড়ালে ব্যালট ছাপানো, বোরকা তৈরি এবং ভোটারদের এনআইডি ও ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহের মতো নানা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড চলছে। তবে তিনি আত্মবিশ্বাসের সাথে জানান, এসব করে জনগণকে বিভ্রান্ত করা যাবে না। সাধারণ মানুষ এখন সচেতন এবং তারা যেকোনো অপচেষ্টা রুখে দিতে ব্যালটের মাধ্যমেই কড়া জবাব দেবে।
সংবাদ সম্মেলনে আমীর খসরু তাঁর নির্বাচনী এলাকা বন্দর-পতেঙ্গার জন্য ১১ দফা উন্নয়ন প্রতিশ্রুতি ঘোষণা করেন। তাঁর এই পরিকল্পনার প্রধান আকর্ষণ হলো এলাকায় ১ হাজার ২০০ শয্যার একটি অত্যাধুনিক হাসপাতাল নির্মাণ এবং বেকার তরুণদের আইটি খাতে দক্ষ করতে ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা। এছাড়াও তিনি জলাবদ্ধতা নিরসন, দীর্ঘমেয়াদী যানজট দূরীকরণ এবং সন্ত্রাস ও মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করেন। তিনি মনে করেন, বন্দর এলাকার টেকসই উন্নয়নের জন্য একটি আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও পরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা অপরিহার্য।
চট্টগ্রামের অর্থনৈতিক গুরুত্ব তুলে ধরে সাবেক এই বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় আসলে চট্টগ্রামকে কেবল নামমাত্র বাণিজ্যিক রাজধানী নয়, বরং একে দক্ষিণ এশিয়ার একটি প্রধান ‘লজিস্টিক হাব’ হিসেবে গড়ে তোলা হবে। এর ফলে প্রতিবেশী দেশগুলোও চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহারের সুবিধা পাবে, যা জাতীয় অর্থনীতিতে গতি সঞ্চার করবে। তিনি চট্টগ্রামের সমন্বিত ডিজিটাল সেবা ব্যবস্থা চালুর ওপর জোর দেন, যাতে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের মধ্যে সমন্বয়হীনতা দূর হয় এবং নাগরিকরা হয়রানি ছাড়াই দ্রুত সেবা পান।
ভবিষ্যৎ রাজনীতি প্রসঙ্গে আমীর খসরু বলেন, বিএনপি জনগণের দল হিসেবে সবসময় গণতন্ত্রের পক্ষে অটল। যদি দেশের প্রয়োজনে সমমনা দলগুলোর সাথে আদর্শ ও পরিকল্পনার মিল পাওয়া যায়, তবে আলাপ-আলোচনার ভিত্তিতে কোয়ালিশন সরকার গঠনের বিষয়টি ভাবা হতে পারে, যদিও একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার ওপরই তাঁর দলের পূর্ণ আস্থা রয়েছে। অতীতের মতো আগামীতেও বাংলাদেশের সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়তে নাগরিকরা ধানের শীষের পক্ষেই রায় দেবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।



